দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যু, গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী কারাগারে

মোছা. মাকসুদা ইসলাম (বাঁয়ে) ও তার স্বামী এমপি গাজী নজরুল ইসলাম— ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকসুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন।
ওই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসামি মামলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এসব তথ্য তদন্তে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। তবে আসামিপক্ষে কোনো আবেদন না থাকায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে সোমবার এই মামলায় মাকসুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পাশাপাশি তার স্বামী গাজী নজরুলের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। তিনি রিমান্ডে রয়েছেন। রিমান্ড চলাকালে মামলাটি থানা পুলিশ থেকে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।
গত রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ৫ নম্বর ন্যাম ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মরিয়ম খাতুনের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরে বাংলা নগর থানায় একটি আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেন। এতে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং বাদীর শ্যালক ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিক্টিমের ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসদ ভবনের বিপরীত পাশে ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের ৩য় তলায় বসবাস করতেন। আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুলের সঙ্গে ভিকটিম মরিয়মের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী ভিকটিম মরিয়মকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত বলে বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে জানায়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৫টায় গাজী নজরুল ভিক্টিমের বাবাকে মোবাইল ফোনে দ্রুত তাদের বাসায় যেতে বলেন। বাসায় এসে দেখতে পান অনেক লোকজন সেখানে উপস্থিত। তখন তিনি জানতে পারেন বাসার ভেতরের রুমে ভিকটিম মরিয়ম ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে রয়েছেন।
শেরেবাংলা নগর পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তার মেয়ের দেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে রয়েছে দেখতে পান। এসময় বিছানার ওপরে তার লেখা একটি সুসাইড নোট পান। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় তার মেয়ে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।




