সাবেক মেয়র তাপস ও তার স্ত্রীর ৬ ক্রেডিট কার্ড ব্লকের নির্দেশ

মধুমতি ব্যাংক পিএলসিতে থাকা ছয়টি ক্রেডিট কার্ড থেকে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও তার স্ত্রী আফরিন তাপস। এতে তদন্ত কার্যক্রম বিঘ্নিত হতে পারে শঙ্কায় এসব কার্ডের ডেবিট কার্যক্রম ব্লকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ সোমবার এ আদেশ দেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ। এ তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন।
এদিন পৃথক দুটি আবেদন করেন দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস রহমান। আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি তাপস ও তার স্ত্রী আফরিনের নামে থাকা ক্রেডিট কার্ডগুলোর মাধ্যমে যাতে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে না পারেন, সেজন্য দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ এর ১৮ বিধি এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ১৪ ধারা মোতাবেক কার্ডসমূহের ডেবিট কার্যক্রম ব্লক করা একান্ত প্রয়োজন।
আবেদনে আরও বলা হয়, তদন্তকালে বিশ্বস্তসূত্রে জানা যায় এসব ক্রেডিট কার্ডসমূহের মাধ্যমে ব্যাংক হতে টাকা উত্তোলনের প্রচেষ্টা করছেন আসামিরা। মামলা নিষ্পত্তির আগে এই ক্রেডিট কার্ডগুলোর মাধ্যমে ব্যাংক হতে টাকা উত্তোলন করলে বিঘ্নিত হবে তদন্ত কার্যক্রম। তাই ক্রেডিট কার্ডগুলোর ডেবিট কার্যক্রম ব্লক করা একান্ত প্রয়োজন। এছাড়া আদালতের অবরুদ্ধ আদেশ কার্যকরের জন্য মধুমতি ব্যাংককে নির্দেশ দিতে আবেদন জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে শেখ ফজলে নূর তাপস ও তার স্ত্রী আফরিন তাপসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৭৩ কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগ আনা হয় শেখ ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ২৭টি ব্যাংক হিসাবে ৫৩৯ কোটি ১৬ লাখ ২৫ হাজার ২৭৮ টাকা ও ৫ লাখ ১৭ হাজার ৫২৭ ডলারের অস্বাভাবিক লেনদেনের অভিযোগ করা হয়। মামলায় তাপসের স্ত্রী আফরিন তাপসও ৬ কোটি ৪০ লাখ ৮৯ হাজার ৯৮ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। তার নয়টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৭০ কোটি ৮৯ লাখ ৯৩ হাজার ৬৬৯ টাকা ও ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৯৬৩ ডলারের অস্বাভাবিক লেনদেন করা হয়।

