সুপ্রিম কোর্টে পর্যাপ্ত বাজেট, আপিল-হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি নিয়োগে লিগ্যাল নোটিস

ফাইল ছবি
বিচার বিভাগের জন্য পর্যাপ্ত ও যুক্তিসঙ্গত বাজেট বরাদ্দ, বিচারপ্রার্থী জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির অধিকার, ন্যায্য বিচার ও দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে সরকারকে আইনি নোটিস পাঠানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাওছার রবিবার এই নোটিস দিয়েছেন।
আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, অর্থ বিভাগের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল এবং অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর রেজিস্টার্ড ডাকযোগে ও ই-মেইলে এই নোটিস পাঠানো হয়েছে।
সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পৃথক রাখার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকলেও পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহায়তা ছাড়া তা কার্যকর হওয়া সম্ভব নয় বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়।
নোটিসে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে সুপ্রিম কোর্টের জন্য মাত্র ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ছিল ২৭০ কোটি টাকা। অথচ দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটের তুলনায় এ বরাদ্দ অত্যন্ত নগণ্য।
নোটিসে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের একটি সাম্প্রতিক বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে, যেখানে তিনি সমগ্র বিচার বিভাগকে ‘সবচেয়ে অবহেলিত খাত’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। জানান, সমগ্র বিচার বিভাগের জন্য মোট বরাদ্দ মাত্র ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা— যেখানে শুধু বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্যই বরাদ্দ ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪ হাজারের কোটিরও বেশি। অর্থাৎ ১৭ কোটিরও বেশি নাগরিকের ন্যায়বিচারের দায়িত্বে থাকা সমগ্র বিচার বিভাগের বরাদ্দ একটি মাত্র সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের চেয়েও কম, যা আইনমন্ত্রী নিজের স্বীকারোক্তি অনুযায়ীই রাষ্ট্রের অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ বলে নোটিসে দাবি করা হয়েছে।
নোটিস অনুযায়ী, ২ হাজার ২০০ কোটি টাকার এ অঙ্কের বড় অংশই ব্যয় হয় আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে অধস্তন আদালতের বেতন-ভাতা, প্রশাসন, অবকাঠামো এবং চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ভবন নির্মাণ, ই-জুডিশিয়ারি স্বয়ংক্রিয়করণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে। তা সত্ত্বেও সামগ্রিকভাবে বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দকৃত সম্পদের ব্যাপ্তি, মামলাজট ও সাংবিধানিক গুরুত্বের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
নোটিস প্রাপকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, অবিলম্বে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পর্যাপ্ত ও যুক্তিসঙ্গত বাজেট বরাদ্দ; আইনজীবীদের জন্য ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণ; প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে একটি যুক্তিসঙ্গত বাজেট কাঠামো প্রণয়ন; আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগ ও বেঞ্চ গঠন; মামলার পরিমাণ, নিষ্পত্তির হার ও দায়েরের প্রবণতা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় বিচারপতি ও বেঞ্চের সংখ্যা নির্ধারণে একটি সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ এবং বিচার বিভাগের প্রকৃত রাজস্ব আয়ের একটি পৃথক ও স্বচ্ছ বার্ষিক হিসাব প্রকাশের।
নোটিস প্রাপকদের ৩ দিনের মধ্যে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে লিখিতভাবে অবহিত করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ৭, ২১, ২২, ২৭, ৩১, ৩২, ৩৫(৩), ৪৪, ৯৪ ও ১১৬ক অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের অভিযোগে জনস্বার্থে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়েরের কথা নোটিসে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।





