হাইকোর্টের রায়
নিলামে বিক্রি হওয়া সম্পত্তির ওপর ভ্যাট আরোপ অবৈধ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নিলামে বিক্রি হওয়া সম্পত্তির ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপ করাকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে করা একটি রিট আবেদনের শুনানি করে গত মঙ্গলবার এ রায় দিয়েছেন বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হক সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
মামলার সূত্রপাত একটি বন্ধকী ঋণ আদায়ের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে। একটি ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান কার্যকরী মূলধন ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ঢাকার অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করে। পরবর্তী সময়ে বন্ধকী সম্পত্তি নিলামে তোলা হয়। নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২৪ কোটি টাকা মূল্যে সম্পত্তিটি ক্রয় করেন ক্রেতারা। দর অনুমোদিত হওয়ার পর তারা সম্পূর্ণ অর্থ জমা দেন। অর্থঋণ আদালত ওই জমা এবং পাউন্ডেজ ফি গ্রহণের পর নিলামমূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প শুল্ক জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরে নিলাম ক্রেতারা ও ডিক্রিদার ব্যাংক অর্থঋণ আদালতের ওই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে। এরপর আগের কয়েকটি রায়ের আলোকে অর্থঋণ আদালত ডিক্রিধারী ব্যাংককে ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রদান থেকে অব্যাহতি দেন। কিন্তু নিলাম ক্রেতাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে তাদের নিলামমূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও স্ট্যাম্প শুল্ক জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এমতাবস্থায় নিলাম ক্রেতারা হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। প্রাথমিক শুনানির পর ২০২৬ সালের ৮ এপ্রিল হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ বিষয়ে রুল জারি করেন। নিলাম ক্রেতা হিসাবে আবেদনকারীদের ওপর স্ট্যাম্প শুল্কসহ ১৫ শতাংশ ভ্যাট জমা দেওয়ার নির্দেশ কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়। একই সঙ্গে রুলের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ওই নির্দেশের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়।
পরে বিস্তারিত শুনানি করে হাইকোর্ট গত ১ সেপ্টেম্বর রুল চূড়ান্ত ঘোষণা করেন। নিলাম ক্রেতা হিসেবে আবেদনকারীদের নিলামমূল্যের ওপর উৎসে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের নির্দেশ প্রদান করে অর্থঋণ আদালতের দেওয়া আদেশটি বেআইনি ঘোষণা করেন। পাশাপাশি আদালত সংশ্লিষ্ট এসআরও এর যে অংশে স্থাবর সম্পত্তির ক্রেতাকে ‘পণ্যের নিলাম ক্রেতা’ এর সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে সেই অংশও বেআইনি ঘোষণা করেছেন।
নিলাম ক্রেতাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব জানিয়েছেন, রায়ের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, অর্থঋণ আদালত পরিচালিত বিচারিক নিলামের মাধ্যমে ক্রয় করা স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর কোনো ভ্যাট প্রযোজ্য হবে না। একই সঙ্গে আদালত নিশ্চিত করেছেন, সংসদ যেখানে কোনো কর দায় থেকে স্পষ্টভাবে অব্যাহতি দিয়েছে, সেখানে অর্পিত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নতুন করে কোনো কর দায় আরোপ করা যায় না।
আদালতে নিলাম ক্রেতাদের পক্ষে আরো ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তানিম খান।





