আসামির পক্ষে নিহত কিশোরীর বাবা-মায়ের জবানবন্দি নিয়ে প্রশ্ন

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকায় ২০১৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হত্যার শিকার হয় স্কুলছাত্রী রিমা আক্তার। তিনদিন পর জাজিরা থানায় মামলা করেন তার বাবা ইলিয়াস চোকদার। তাতে অভিযোগ করা হয় ধর্ষণ ও হত্যার। দুই বছর পর মামলার রায়ে মৃত্যুদণ্ড পান মামলার চার আসামি। তবে আজ হাইকোর্টে আপিলের শুনানিতে দুই আসামি পেলেন খালাস, দুইজনের সাজা কমে হলো যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
এর কারণ- রিমার বাবা-মার জবানবন্দি, মনে করছেন আইনজীবীরা। ‘রিমা বিবাহিত ছিল না। কিছুটা অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করত মেয়েটা। এখন পর্যন্ত জানি না, মেয়েকে কে বা কারা হত্যা করেছে। উপস্থিত আসামিরা খালাস পেলে আমার আপত্তি নাই।’ মামলার বাদী রিমার বাবা ইলিয়াস একথাই বলেছিলেন আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে।
প্রায় একই জবানবন্দি রিমার মা নারগিস আক্তারের। তিনি বলেছেন, ‘মেয়ে লেখাপড়ার পাশাপাশি আশেপাশের বাড়িতে যেত আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। বোঝানোর চেষ্টা করি। এ মামলার বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানি না। আসামিরা আমার মেয়ের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না। আসামিরা সকলেই বিবাহিত। তারা খালাস পেলে আপত্তি নাই।’
বাবা-মায়ের এমন জবানবন্দির পরেও পুলিশের দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করে মামলার বিচার শুরু করেন আদালত। ২০১৯ সালের ৭ মে মামলায় রায় দেন শরীয়তপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। চার আসামিকে দেওয়া হয় মৃত্যুদণ্ড। তারা হলেন- চুন্নু মোড়ল, নুরু মোড়ল, সেলিম চৌকিদার ও স্বপ্না বেগম।
পরে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স আসে হাইকোর্টে। পাশাপাশি আপিল করেন আসামিরা। চূড়ান্ত শুনানিতে আজ স্বপ্না বেগম ও সেলিম চৌকিদারকে খালাস দেন হাইকোর্ট। চুন্নু মোড়ল ও নুরু মোড়লকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা এই রায় দেন।
বাবা-মায়ের এমন জবানবন্দিকে রহস্যজনক মনে করছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন। তিনি বলছিলেন, ‘আমাদের সমাজব্যবস্থায় বাবা-মা কোনো মেয়ের বিরুদ্ধে এমন সাক্ষ্য দেবেন- তা অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক। তবে অনেক সময় আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে আসামিপক্ষের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে সত্য গোপন করে এমন বক্তব্য দিতে পারেন।’
এই মামলায় হাইকোর্টে আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান। তবে রিমার বাবা-মায়ের এই জবানবন্দির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বললেন, ‘ঘটনার তিনদিন পর মামলা হয়। অভিযোগে ছিল না আসামিদের নাম।’
সরকার পক্ষে হাইকোর্টে প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার সৈয়দ ইজাজ কবির। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান তিনিও।





