ডাকাতিকালে জোড়া হত্যা
সাত বছর পর একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৭ জনের যাবজ্জীবন

ছবিঃ আগামীর সময়
সাত বছর আগে জোড়া হত্যা। সেই হত্যা মামলায় রায় হলো আজ রবিবার। রায়ে শেখ নাসির নামে একজনের মৃত্যুদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। একইসঙ্গে আরও সাতজনের যাবজ্জীবন ও জরিমানা করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।
রায় দেন ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ মুনির হোসাঈন। এ তথ্য জানান সংশ্লিষ্ট আদালতের অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর ফয়সাল মাহমুদ।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— নুর ইসলাম ওরফে নুর হোসেন মোল্লা, সাইফুল আলম শেখ, সুমন শেখ, বাবুল গাজী, শেখ হাবিবুর রহমান ওরফে হবি, আনোয়ার হোসেন বাবু ও আল-আমিন।
আসামিদের মধ্যে পলাতক আল-আমিন, হবি ও সুমন। অন্য আসামিরা ছিলেন আদালতে। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের পাঠানো হয় কারাগারে।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ২৩ মে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শেখ কালাম ও জাহিদ ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জের বান্দুরা থেকে ফিরছিলেন নিজ বাড়ি।
তারা মতব্বপুরের ডাঙ্গারচর নামক স্থানে পৌঁছালে আসামিরা ডাকাতির উদ্দেশ্যে দুটি কলাগাছ ফেলে তাদের মোটরসাইকেল থামায়। এরপর তাদের দুজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায় আসামিরা। কালাম রক্তাক্ত অবস্থায় জীবন বাঁচাতে কিছু দূর দৌড়ে পড়ে যান রাস্তায়। তাদের চিল্লাচিল্লিতে লোকজন ও পুলিশ এলে পালায় আসামিরা।
স্থানীয়রা কালামকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মৃত বলে জানান চিকিৎসক। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান জাহিদও।
ঘটনার দুদিন পর শেখ কামালের ছেলে নবাবগঞ্জ থানায় করেন হত্যা মামলা। মামলাটি তদন্ত করেন নবাবগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর আসিকুজ্জামান। তিনি ২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি ডাকাতি করতে গিয়ে খুনের অভিযোগে আটজনকে অভিযুক্ত করে জমা দেন প্রতিবেদন।
২০২২ সালের ১২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে শুরু হয় বিচার। বিচার চলাকালে আদালত ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ১৮ জনের।

