ঈদুল আজহায় বড় পর্দায় আসছে ‘রইদ’

‘রইদ’ ছবির দৃশ্যে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি। ছবি: ফেসকার্ড প্রোডাকশন
‘হাওয়া’ বানিয়ে দেশীয় চলচ্চিত্রের পালে সুবাতাস এনে দিয়েছিলেন মেজবাউর রহমান সুমন। এবার আসছে তার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘রইদ’। আসন্ন ঈদুল আজহায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশব্যাপী বড় পর্দায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে ছবিটি। রবিবার (১২ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বঙ্গ এবং ফেসকার্ড প্রোডাকশনের যৌথ প্রযোজনায় তৈরি হয়েছে ‘রইদ’। রাজধানীর নিকেতনে ফেসকার্ড প্রোডাকশনের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঈদুল আজহায় উৎসবমুখর পরিবেশে দেশব্যাপী একযোগে মুক্তি দিতে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রকাশ্যে এসেছে ছবির প্রথম গান।
‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে!’ শিরোনামের গানটি লিখেছেন, সুর করেছেন ও কণ্ঠ দিয়েছেন সহজিয়া ব্যান্ডের রাজীব আহমেদ রাজু। সংগীতায়োজন, চূড়ান্ত প্রযোজনা, মিক্স ও মাস্টারিংয়ের কারিগরি কাজগুলো সম্পন্ন করেছেন রাশিদ শরীফ শোয়েব। সার্বিক অডিও প্রোডাকশন ও শব্দবিন্যাসের দায়িত্বে ছিল অডিও প্রতিষ্ঠান স্টুডিও কাউবেল।
মেজবাউর রহমান সুমন বলেছেন, ‘হৃদয়স্পর্শী কথা, গ্রামবাংলার শেকড়সন্ধানী সুর ও দরদী গায়কী রয়েছে এই গানে। সুরের মতোই ‘রইদ’-এর গল্প দর্শকদের অনুভূতির গভীরে দাগ কাটবে এবং তাদের অকৃত্রিম ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস।’
নির্মাতার বয়ানে, ‘সিনেমাটি মূলত সাধু ও তার পাগল স্ত্রীর সম্পর্কের এক সরল অথচ গভীর আখ্যান, যা প্রেম ও নীরবতার মাধ্যমে মানব বিবর্তনের সেই চিরন্তন আদিম প্রেমকে তুলে ধরে।’ এতে সাধু চরিত্রে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান এবং স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি।
‘হাওয়া’র পর ‘রইদ’-এর মাধ্যমে দ্বিতীয়বার মেজবাউর রহমান সুমনের সঙ্গে কাজ করলেন অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। ছবির প্রথম গান তিনি অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। এ প্রসঙ্গে তার মন্তব্য, ‘গানটি আমার ব্যক্তিগতভাবে খুব প্রিয়। ছবিটির ভাবনা থেকে শুটিং পর্যন্ত দীর্ঘ একবছরের প্রস্তুতি আমার চোখের সামনে ঘটেছে। বিশেষ করে সিলেটে শূন্য থেকে একটি পূর্ণাঙ্গ লোকেশন বা বাড়ি তৈরি হওয়ার প্রতিটি ধাপ আমি প্রত্যক্ষ করেছি।’
‘পাগলি চরিত্রে অভিনয় করার সুবাদে এই যাত্রায় গ্রামবাসী আমাদের টিমের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিলেন। এতদিন যে আবেগ আমরা লালন করেছি, এখন সেটি দর্শকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত মুহূর্ত চলে এসেছে। এই প্রাপ্তির অনুভূতি সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’
গায়ক, সুরকার ও গীতিকার রাজীব আহমেদ রাজু বলেছেন, ‘প্রায় দুই বছর আগে গানটির জন্ম। এর নামটা আগে পেয়েছি, গান তৈরি হয়েছে পরে। আমার জন্য এটি পুরোপুরি নতুন অভিজ্ঞতা।’
পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন আমাকে কোনও গতানুগতিক গল্প বলেননি, বরং এই সিনেমার পেছনে তার গভীর চিন্তা ও অনুভূতিগুলো জানিয়েছিলেন। আমরা অনেকদিন ধরে এই গান নিয়ে কথা বলেছি। আমাদের কাছের মানুষ শোয়েবের চমৎকার সংগীতায়োজনে এটি পূর্ণতা পেয়েছে।
অডিওর কাজ শেষে সুনামগঞ্জে রোদ-বৃষ্টি ও ধুলোবালি মেখে নির্মাতা সত্যিই অসাধারণ ভিজ্যুয়াল তৈরি করেছেন। দীর্ঘ পরিশ্রমের চূড়ান্ত ফসল দর্শক-শ্রোতারা শুনতে ও দেখতে পারছেন, এটাই এখন সবচেয়ে বড় আনন্দ।’
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বঙ্গ’র পক্ষ থেকে প্রযোজক মুশফিকুর রহমান মনে করেন, রইদে আইলা গা জুড়াইতে!’ গানটি ছবিটির শেকড়সন্ধানী রূপ ও আত্মাকে নিখুঁতভাবে ধারণ করেছে। তার ভাষ্য, সুমন একজন দুর্দান্ত নির্মাতা। তার এই সৃজনশীল যাত্রায় সঙ্গী হতে পেরে বঙ্গ পরিবার গর্বিত। ‘রইদ’ কেবল একটি সিনেমা নয়, বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য এটি একটি নতুন অধ্যায় হতে পারে। দেশব্যাপী এর দারুণ সাফল্য কামনা করছি। আমাদের বিশ্বাস, দর্শকদের অকৃত্রিম ভালোবাসায় ছবিটি নতুন মাইলফলক তৈরি করবে এবং পুরো টিমের অক্লান্ত পরিশ্রম সার্থক হবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, ‘হাওয়া’র পর মেজবাউর রহমান সুমনের নতুন সৃষ্টি ‘রইদ’ দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণে শতভাগ সফল হবে। এর আগে ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যাম’-এর টাইগার কম্পিটিশন বিভাগে নির্বাচিত হয় এটি। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসা কুড়িয়েছে ছবিটি।

