নারী উদ্যোক্তা
তেলের জন্য দাঁড়িয়ে থাকলে ঘরে চুলা জ্বলবে না

ছবিঃ আগামীর সময়
ফয়সাল-তারিন দম্পতি। থাকেন চট্টগ্রাম শহরের উত্তরের প্রবেশমুখ অক্সিজেন রৌফাবাদ এলাকায়। ফয়সাল প্রতিদিন তারিনকে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যেতেন অফিসে। এরপর তিনি যেতেন ব্যবসায়িক কাজে। আবার বিকেলে একইভাবে নিয়েও আসতেন তারিনকে। তারা এভাবেই চলছিলেন দেড় বছর ধরে। কিন্তু জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে এলোমেলো হয়ে গেছে তাদের রুটিন।
তেলের খোঁজে শহরের বিভিন্ন পাম্প ঘুরেছে এ দম্পতি। না পেয়ে তারা এখন অপেক্ষা করছেন গনি বেকারির কিউসি পাম্পের মোটরসাইকেলের লাইনে। ঘড়িতে তখন বাজে ১২টা। অথচ অফিস টাইম সকাল ১০টা।
একই ভোগান্তির কথা জানালেন উদ্যোক্তা ও ব্লগার নুসরাত জাহান। সামনে পহেলা বৈশাখ, তিনি ব্যবসার কাজে ব্যস্ত। কিন্ত তার স্কুটিতে তেল প্রয়োজন। কোথাও পাচ্ছেন না তেল। ক্ষোভ জেরে বললেন, ‘আমাদের ঘর ও ব্যবসা— দুটোই সামলাতে হয়। পুরুষদের মতো ২-৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করা সম্ভব না মেয়েদের পক্ষে। আমরা এখানে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলে ঘরে চুলা জ্বলবে না, আবার ব্যবসাও লাটে উঠবে।’
জ্বালানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে নারীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করার দাবি জানান এ ভুক্তভোগী নারী। যাতে ভোগান্তি কমে কর্মজীবী নারীদের।
নগরীর বিভিন্ন পেট্রল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে জনে ভোগান্তির ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও পিকআপ ভ্যানের দীর্ঘ সারি এখন প্রতিটি পাম্পে। তেল সংকটে বন্ধ অনেক পাম্প। যেগুলো খোলা আছে সেখানে ৩-৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর শেষ হয়ে যায় পাম্পের তেল। অবশেষে ফিরতে হয় খালি হাতে। এতে বাড়ছে ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ ও অসন্তোষ।
গনি বেকারি এলাকার কিউসি পেট্রোল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, পরিস্থিতি সামাল দিতে গ্রাহকদের চাহিদা বুঝে তেল বিক্রি করছে তারা। প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল দিতে চাচ্ছে না পাম্প কর্তৃপক্ষ।
পাম্পের ম্যানেজার মীর খান জানান, ‘আগে যেখানে ৩-৪ গাড়ি তেল দিয়ে সরবরাহ ঠিক রাখা যেত, এখন সেখানে প্রয়োজন হচ্ছে ৫-৬ গাড়ি তেল। পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়ায় আমরা হিমশিম খাচ্ছি গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে।’
এই ভোগান্তির মূলে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনা বাংলাদেশে জ্বালানি ঘাটতির অন্যতম কারণ।

