চট্টগ্রাম
২০ মিনিটেই শেষ ঐতিহ্যের বলীখেলা

ছবিঃ আগামীর সময়
চৈত্র ও বৈশাখ মাস মানেই গ্রামবাংলায় মেলা-খেলার আয়োজন। বলীখেলা (কুস্তি), ষাঁড়ের লড়াই এসব যুগ যুগ ধরে বাঙালির ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে। কালের বিবর্তনে অনেক মেলা হারিয়ে গেলেও চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার কুয়াইশ কলেজ মাঠের শতবর্ষী বৈশাখী মেলা ও বলীখেলা এখনও সেই ঐতিহ্য বহন করে চলছে।
চুহুর খাঁন দীঘি বৈশাখী মেলা ও বলীখেলা নামে পরিচিত। এই আয়োজন প্রতি বছর বাংলা বছরের ২৯ চৈত্র অনুষ্ঠিত হয়। আগে তিন দিনব্যাপী মেলা হলেও এবারও রবিবার বিকেলে কলেজ মাঠের এক পাশে অনুষ্ঠিত হলো বলীখেলা।
এবারের প্রতিযোগিতায় কুমিল্লার রাশেদ বলী টেকনাফের রবিউলকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তবে খেলায় অংশ নিয়েছেন মাত্র পাঁচজন বলী, যা দর্শকদের প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।
বলীখেলা দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা বয়সী মানুষের ভিড় জমলেও আয়োজনের স্বল্পতায় হতাশ হয়েছেন অনেকেই। পুরো বলীখেলা শেষ হয়েছে মাত্র ২০ মিনিটে।
দর্শক তরুণ মো. সোহেল বলেছেন, ‘এই বলীখেলা দেখতে প্রতি বছর দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। কিন্তু শুরু হতে না হতেই শেষ হয়ে গেল, খুবই হতাশাজনক।’
একসময় এই মেলায় বলীখেলার পাশাপাশি ষাঁড়ের লড়াইও অনুষ্ঠিত হতো। সত্তরোর্ধ্ব এস এম আলীর সঙ্গে কথা হয়। জানালেন, এখানে প্রতি বছর ২৯ চৈত্র বলীখেলা হয়। আগে ষাঁড়ের লড়াই হতো, এখন সেটা বন্ধ হয়ে গেছে। পাকিস্তান আমল থেকেই এই মেলা হয়ে আসছে।
স্থানীয় বাসিন্দা নূর হোসেন (৬৫) বলেছেন, ‘আমার বাবা ছোটবেলা থেকেই এই মেলা দেখে আসছেন। বলীখেলাই এই মেলার প্রধান আকর্ষণ।’
যদিও বলীখেলার সংক্ষিপ্ততায় দর্শকদের মধ্যে হতাশা রয়েছে, তবুও মেলার প্রাণচাঞ্চল্যে কোনো ঘাটতি নেই। এবার তিন দিনের পরিবর্তে ১০ দিনব্যাপী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। কলেজ মাঠজুড়ে বসেছে নানা পসরা- হাতপাখা, খেলনা, গজা, বুট, পোশাক, চুড়ি, ব্যাগ, প্রসাধনীসহ বিভিন্ন সামগ্রী।
‘প্রতি বছর এই মেলায় আসি। ২৯ চৈত্র আমাদের মনে থাকে। তাই প্রতিবছরই চলে আসি। সামনে জব্বারের বলীখেলার জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ - বলছিলেন বাঁশখালী থেকে আসা হাতপাখা বিক্রেতা মো. জামাল।
মেলার সূচনাকাল সঠিকভাবে জানা না গেলেও স্থানীয়দের মতে এটি শতবর্ষী ঐতিহ্য। চুহুর খাঁন, আব্দুর রশীদ টেন্ডল ও তজু মিয়ার মতো এলাকার বিত্তশালীরা একসময় এই মেলার আয়োজন করেছিলেন।

