অবৈধভাবে ফ্ল্যাট গ্রহণের মামলা
টিউলিপ ও মোশাররফের বিরুদ্ধে শুনানি পেছাল তিনবার

টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক
রাজধানীর গুলশান-২ এলাকায় অবৈধভাবে একটি ফ্ল্যাট গ্রহণের অভিযোগে দুদকের করা মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি আবারও পিছিয়েছে। মামলার আসামি শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা সরদার মোশাররফ হোসেন। আগামী ১ সেপ্টেম্বর শুনানির নতুন দিন ধার্য করেছে আদালত।
আজ রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন। এর আগে গত ১৬ এপ্রিল ও ৬ মে অভিযোগ গঠন শুনানি দুই দফা পিছিয়েছিল।
দুদকের প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানিয়েছেন, জামিনে থাকা আসামি মোশাররফ সময়ের আবেদন করেন। আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে নতুন দিন ধার্য করেন।
অবৈধ সুবিধা নিয়ে ঢাকার গুলশানে ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের একটি ফ্ল্যাট নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৫ এপ্রিল মামলা করে দুদক। মামলায় আসামি করা হয় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, রাজউকের সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা শাহ মো. খসরুজ্জামান এবং সাবেক সহকারী আইন উপদেষ্টা-১ সরদার মোশাররফ হোসেনকে।
তদন্ত শেষে গত ১১ ডিসেম্বর অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। এতে দণ্ডবিধির ১৬১/১৬৫(ক)/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও সরদার মোশাররফ হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নেন আদালত। একই দিন তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক এ কে এম মর্তুজা আলী সাগর টিউলিপকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিস জারির অনুমতি চান। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।
গত ৮ মার্চ তাদের আদালতে হাজির হওয়ার গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়।
মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ গত ৮ এপ্রিল এটি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এ বদলি করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠনের জন্য ১৬ এপ্রিল দিন ধার্য করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। কোনো টাকা পরিশোধ না করেই ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের গুলশান-২ এলাকার একটি ফ্ল্যাট দখল নেন। পরে সেটি রেজিস্ট্রি করেন। ফ্ল্যাটটির নম্বর বি/২০১। বাড়ি নম্বর ৫এ ও ৫বি (পুরনো)। বর্তমানে ১১৩, ১১বি (নতুন)। রোড নম্বর ৭১।
পরে গত বছরের জুলাই মাসে আসামি শাহ মো. খসরুজ্জামান মামলার তদন্ত স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট খসরুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্ত তিন মাসের জন্য স্থগিত করেন।
পরে চেম্বার আদালতে গেলেও দুদক ‘নো অর্ডার’ আদেশ পায়।
প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির পৃথক তিন মামলায় টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের দুই বছর করে মোট ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।




