মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার শ্যামল-মোজাম্মেল-রুপা

সংগৃহীত ছবি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে আন্দোলনবিরোধী বক্তব্য প্রচারণার মাধ্যমে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় তিন সাংবাদিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
তারা হলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল বাবু এবং একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা।
একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৫ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়েছে।
প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ সোমবার এই আদেশ দেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, মার্জিনা রায়হান, তারেক আবদুল্লাহসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর।
শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় তিন সাংবাদিক শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার বিরুদ্ধে গত ১৭ আগস্ট প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। সেই আদেশের ভিত্তিতে সোমবার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে তিনজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আবেদন জানায় প্রসিকিউশন। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুই মাস সময় চাওয়া হয়।
শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আবেদন মঞ্জুর করেন। আদালত তিন সাংবাদিককে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে গণভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তিন সাংবাদিক মামলায় বর্ণিত অপরাধে প্ররোচনা দেন। অথচ ওই সংবাদ সম্মেলনটি শেখ হাসিনার চীন সফর নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা কোটা আন্দোলন প্রসঙ্গে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি ‘রাজাকার’ শব্দটি ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থীরা ওই শব্দকে অবমাননাকর হিসেবে বর্ণনা করেন। এ বক্তব্যের জেরে ওই রাতেই বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ১৪ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে একটি ‘কাউন্টার-ন্যারেটিভ’ বা পাল্টা বয়ান তৈরি ও প্রচারে ভূমিকা রাখেন শ্যামল দত্ত, মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপা।
সেসময় মোজাম্মেল হক বাবু একাত্তর টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক এবং ফারজানা রুপা চ্যানেলটির প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাংবাদিক, লেখকসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের আন্দোলনবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা পৃথকভাবে তদন্ত করছে।
এদিকে, ২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর ও নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় ইতোমধ্যে মোজাম্মেল হক বাবু ও ফারজানা রুপাকে আসামি করে ফরমাল চার্জ জমা দেওয়া হয়েছে।







