মরিয়মের মৃত্যু : এমপি নজরুলের প্রথম স্ত্রীকে কারাগারে আটক রাখতে আবেদন

মোছা. মাকসুদা ইসলাম (বাঁয়ে) ও তার স্বামী এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এমপি গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকসুদা ইসলামের রিমান্ড শেষ হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মনে করেন, রিমান্ডে মাকসুদার দেওয়া তথ্য তদন্তে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তাকে কারাগারে আটক রাখতে আজ মঙ্গলবার আদালতে দেওয়া হয়েছে আবেদন। তাতে বলা আছে এসব।
গতকাল সোমবার মাকসুদাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। তার স্বামী গাজী নজরুলকে দেওয়া হয় চার দিনের রিমান্ডে। গতকাল রাতে মামলাটি থানা পুলিশ থেকে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। আগামী ২২ অক্টোবর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ ধার্য রয়েছে।
গত রবিবার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করা হয় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত দেহ। রাতেই এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
রাতেই শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন মৃত মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ। আসামি করা হয় এমপি নজরুল, মাকসুদা ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে।
বাদী উল্লেখ করেন, আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গত জুনে গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনি মরিয়ম ও প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামসহ ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় বসবাস করছিলেন।
মরিয়ম বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তার পরিবারকে জানায়, বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। ২০ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৫টায় বাদীকে ফোন করে দ্রুত বাসায় আসতে বলেন এমপি নজরুল। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, তার মেয়ে মরিয়ম একটি কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়েছেন।
এজাহারে বলা আছে, ওই কক্ষের বিছানার ওপরে মরিয়মের লেখা একাধিক ‘সুইসাইড নোট’ পাওয়া যায়। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।
গত জুলাইয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ কয়েকটি ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাকে ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
২২ জুলাই গাজী নজরুলকে দল থেকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করা হয়।



