বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭১ নার্সের পদ দখল

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) দুই সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়মবিরুদ্ধভাবে দুই ধাপ ঊর্ধ্বে ডেপুটি নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট (ডিএনএস) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। আর দুজন নার্সিং অফিসার থেকে এক ধাপ ডিঙিয়ে হয়েছেন ডিএনএস। আরও ৬৭ সিনিয়র স্টাফ নার্সকেও কোনো শূন্য পদ না থাকলেও এক ধাপ ডিঙিয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট (এএনএস) পদে উন্নীত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে পদোন্নতি ৭১ জনের।
অভিযোগ উঠেছে, পেশিশক্তি ব্যবহার করে ব্যাপক অনিয়মের মাধ্যমে এ পদোন্নতি আদায় করা হয়েছে। সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত একটি অভিযোগ জমা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। নতুন কমিশনার যোগ দেওয়ার পরই যাচাই-বাছাই শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এ-সংক্রান্ত কিছু ডকুমেন্ট এসেছে আগামীর সময়ের হাতেও।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএমইউর সিনিয়র স্টাফ নার্স শারমিন আক্তার ও শামীম আহমেদ নিয়ম অনুযায়ী নার্সিং অফিসার বা নার্সিং সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পেতে পারতেন। কিন্তু তাদের পদোন্নতি মিলেছে দুই পদ ওপরের ডিএনএস হিসেবে। সিনিয়র স্টাফ নার্স থেকে পদোন্নতি পেতে হলে গ্র্যাজুয়েশন সার্টিফিকেট থাকতে হয়, যেটি তাদের নেই বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে এএনএস থেকে ডিএনএস পদোন্নতিযোগ্য পদ হচ্ছে দুটি। সেখানে চারজনকে ডিএনএস হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সিনিয়র স্টাফ নার্স থেকে এএনএস হিসেবে পদোন্নতিযোগ্য পদ ছিল না। কিন্তু পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে ৬৭ জনকে। এসব পদোন্নতির শর্ত ছিল তারা সবেতনে পদোন্নতিপ্রাপ্ত হবেন। কিন্তু কয়েক মাস যাওয়ার পর তারা পদোন্নতিপ্রাপ্ত স্কেল অনুযায়ী বেতন নিচ্ছেন।
বিএসসি/এমএসসি সার্টিফিকেট নেই: সিনিয়র স্টাফ নার্স থেকে উচ্চতর পদে উন্নতির ক্ষেত্রে বিএসসি বা এমএসসি ডিগ্রি বাধ্যতামূলক। অভিযোগ আছে, এই ৭১ নার্সের প্রায় অর্ধেকের এ ধরনের সনদ নেই।
প্রশ্নের জবাবে ডিএনএস পদে উন্নীত হওয়া শারমিন আক্তার বলেছেন, ‘আমি ২০০৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে জয়েন্ট করেছি। সে হিসাবে ছয় বছর পরপর আমার অটোমেটিক্যালি প্রমোশন হওয়ার কথা; কিন্তু হয়নি। ৫ আগস্টের পর আমার পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো পদ ডিঙানো হয়নি। সব পদোন্নতি বিধি অনুযায়ী ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে হয়েছে। তবে আমার ডিএনএস পদটি এখনো কার্যকর হয়নি, বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে আছি।’
আন্দোলন করে সিন্ডিকেট সভা বসানো হয়: বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী কোনো নিয়োগ, পদোন্নতি বা সাময়িক বরখাস্তের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট সভার অনুমোদন বাধ্যতামূলক। ২০২৪ সালের ৮, ৯ ও ১২ আগস্ট যাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়, তারা এসব সিদ্ধান্তে বৈধতা দিতে সিন্ডিকেট সভা ডাকতে ভিসিসহ প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। একই সঙ্গে ‘দাবি আদায় কমিটি’ গঠন করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, আন্দোলনের নামে চাপ সৃষ্টি ও মব সন্ত্রাসের ভয় দেখিয়ে প্রশাসনকে সিন্ডিকেট সভা ডাকতে বাধ্য করেন তারা। বিএমইউর নার্স নেতা মো. সুজন মিয়া বলেছেন, ‘আমার জানা মতে, দাবি আদায়ের নামে কোনো কমিটি হয়নি। তবে ৫ আগস্টের পর যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছিল, তখন ভূতাপেক্ষভাবে আমাদের নার্সদেরও পদোন্নতি দিয়েছিল।’ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার পদোন্নতির বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘সিন্ডিকেট সভায় এই নিয়োগ অনুমোদিত হয়েছিল।’






