প্রধানমন্ত্রী
সমস্যা থাকবেই, বসে থাকলে চলবে না

সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘দেশে সমস্যা থাকবেই। সেই সমস্যার মধ্য দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বসে থাকলে চলবে না।’
আজ সোমবার বিকেলে সচিবালয়ে এক সভায় এ কথা বলেন তিনি। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই এবং সিটি করপোরেশনসহ মাঠ পর্যায়ে ভেজালবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় এ সভা।
সেখানে সরকারপ্রধান বলছিলেন, ‘পৃথিবীর অনেক দেশ একসময় আমাদের চেয়েও অনুন্নত ছিল, অথচ আজ তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে। সবাই একসঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করলে সেটি অবশ্যই সম্ভব।’
সভায় জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে গুলশান লেকের ব্যবস্থাপনার উদাহরণ সামনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের অনেক লেকই আবর্জনায় ভরে যাচ্ছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এসব আবর্জনা সমাজের শিক্ষিত মানুষরাই ফেলছেন। যাদের সচেতন হওয়ার কথা, অনেক সময় তারাই সচেতন না। দেশকে পরিবর্তন করতে হলে শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, নাগরিকদেরও সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন। সবাইকে সচেতন হয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’
সভায় নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান এবং এসব প্রতিষ্ঠানকে আরো গতিশীল করতে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এই কমিটিতে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। কমিটিকে আগামী এক মাসের মধ্যেই প্রয়োজনীয়তা সাপেক্ষে দ্রুত সমাধানযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদী সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সুপারিশসহ রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
এর আগে সভায় নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তারা। বিশেষ করে জেলাপর্যায়ে জনবল বাড়ানো, উন্নত মানের ল্যাবরেটরি স্থাপন, মাঠ পর্যায়ে কাজ করার জন্য আধুনিক ইকুইপমেন্টের অপ্রতুলতার কথা তুলে ধরেন তারা। একইসঙ্গে বিভিন্ন সিন্ডিকেট ও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে হয় উল্লেখ করে মোবাইল কোর্টের ক্ষমতা বাড়ানোরও দাবি জানান তারা। প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্কটের কথাগুলো শোনেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।





