ফারদিন হত্যা মামলা
কালও দেওয়া হচ্ছে না তদন্ত প্রতিবেদন

সংগৃহীত ছবি
চার বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো শেষ হয়নি বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ হত্যা মামলার তদন্ত। একের পর এক তদন্ত কর্মকর্তা বদল হয়েছেন, অসংখ্যবার পিছিয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ। প্রতিবারই নতুন করে একই ঘটনার বর্ণনা দিতে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের। তবু যেন তদন্ত এগোচ্ছে না এক কদমও।
আগামীকাল রবিবার আবারও আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন। কিন্তু পরিবার বলছে, উদ্বেগ আর হতাশার মধ্যেও আশার আলো খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। গত বুধবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ সুপার (এসপি) তানজিলা সিদ্দিকী আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি, তদন্ত এখনো চলমান।
এই তদন্ত কর্মকর্তা বলছেন, ‘মামলাটি আমার কাছে এসেছে এক-দুই মাস হলো। এটি নিয়ে আমি তেমন এগোতে পারিনি। ১২ জুলাই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে তারিখ রয়েছে। কিন্তু এবারও তদন্তের অগ্রগতি না থাকায় ফের তারিখের জন্য আবেদন করা হবে।’
তার এই বক্তব্য বিস্মিত করেছে ফারদিনের বাবা নূর উদ্দিন রানাকে। তিনি বললেন, ‘এখন পর্যন্ত ৩৭ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হয়েছে। বারবার তদন্ত প্রতিবেদনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়, নতুন নতুন তদন্ত কর্মকর্তা আসেন। কিন্তু তদন্তের কোনো অগ্রগতি দেখি না।’
২০২২ সালের ৪ নভেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পর ৭ নভেম্বর ফারদিন নূর পরশের মরদেহ উদ্ধার করা হয় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে। ফারদিনের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে তৎকালীন নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শেখ ফরহাদ উল্লেখ করেছিলেন, নিহতের মাথায় এবং বুকের পাঁজরে দেশীয় ও ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
এই মামলায় ২০২৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। তখন চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ফারদিন আত্মহত্যা করেছেন। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে নারাজি দেন ফারদিনে বাবা। পরে মামলাটির তদন্তভার যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি)।
আবরার ফাহাদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ, ‘আমিই আবরার’, ‘হাউ টু সারভাইভ ইন দিস কান্ট্রি’ এবং ২০২২ সালের ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে বুয়েট ক্যাম্পাসে ‘লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার’ ক্যাম্পেইনের মতো বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন ফারদিন।
ফারদিনের বাবা নূর উদ্দিন রানার দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ফারদিনকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছিল। তার অভিযোগ, নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বুয়েট শাখার সাবেক কয়েকজন নেতা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।




