তদন্ত কমিটির তথ্য
পুলিশের ডিসির ‘গ্রিন সিগন্যালেই’ গুলশানে আ.লীগের মিছিল

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীর গুলশানে পুলিশ কর্মকর্তার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ নিয়েই মিছিল করেছিলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। চুক্তি অনুযায়ী ১০ জন উপস্থিতির কথা থাকলেও তা ২৫০ ছাড়িয়ে যায়। শুধু তাই নয়, মিছিল থেকে নিক্ষেপ করা ককটেলে গোটা গুলশানসহ আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। অভিযোগ উঠেছে, দফায় দফায় আলোচনার পর বিষয়টি চূড়ান্ত করেছিলেন গত বুধবার প্রত্যাহার হওয়া গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) তানভীর আহমেদ। প্যাকেজে ছিলেন প্রত্যাহার হওয়া গুলশান থানার ওসি দাউদ হোসেনও।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার আকতার হোসেন আগামীর সময়কে বললেন, প্রশাসনিক কারণে ডিসি এবং ওসিকে সংযুক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে আমাকে কোনো কিছু জানানো হয়নি।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ডিএমপির এক কর্মকর্তা বললেন, গত ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান তিন নম্বর সড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের আগেই তাদের গ্রিন সিগন্যাল দিয়েছিলেন গুলশানের তৎকালীন ডিসি তানভীর। তিনি জানতেন ১০-১২ জন মিছিল করবে। ওসি দাউদ শুরুতেই মিছিলের বিষয়টি ডিসিকে জানানোর পরও তিনি খুব একটা গুরুত্ব দেননি। পরে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পেয়ে টনক নড়ে তার।
পুলিশের একাধিক সূত্র বলছে, আলোচিত ওই মিছিলের পর একজন যুগ্ম কমিশনারের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা দফায় দফায় কথা বলেছেন ডিসি গুলশান, ওসি গুলশানসহ বিভাগের একাধিক সদস্য এবং বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে। ডিএমপির তদন্ত কমিটি ছাড়াও বিষয়টি নিয়ে কাজ করেছে একাধিক সংস্থা। গোয়েন্দা ব্যর্থতার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে ডিসি এবং ওসির জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে এসেছে। মিছিলের অনুমতির জন্য ডিসি ১০ লাখ এবং ওসি ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। তবে ডিএমপির গঠিত তদন্ত কমিটির কার্যক্রম এখনো চলমান। তাদের মতামত অনুসারেই ওসিকে বুধবার সকালে এবং ডিসিকে বিকালে প্রত্যাহার করা হয়।
সূত্র আরও জানায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হয়ে বিষয়টি সমন্বয় করেছিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক নেতা মশিউর রহমান কচি। তবে মিছিলে লোক সরবরাহ করেছেন পল্টনের সাবেক সেক্রেটারি কাজী আল জাহিদ, শাহবাগ থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান দিপু, শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সেক্রেটারি হৃদয়।



