হানিট্র্যাপে ফেলে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৫

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীতে হানিট্র্যাপে ফেলে অর্থ আদায়ের অভিযোগে নারীসহ একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দারা। গত কয়েকদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মোঃ আনোয়ার হোসেন (৪৫), বদিউজ্জামান শাহীন (৪৫), মরিয়ম (৪৯), শাহাদাত হোসেন (৫৮) ও উর্মী বেগম (৩৯)।
ডিবি-সাইবার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঋণ বিতরণকারী কর্মকর্তা গত ১৫ এপ্রিল অফিসের কাজে দক্ষিণ বনশ্রীর একটি মার্কেটে গেলে এক নারী তার সঙ্গে পরিচিত হন। নিজেকে ঋণগ্রহীতা পরিচয় দিয়ে তার ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করেন ওই নারী।
পরবর্তীতে কয়েকদিন মোবাইল ফোনে নিয়মিত যোগাযোগের করে ভুক্তভোগীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন ওই নারী। একপর্যায়ে তিনি বনশ্রী ইউনিটি হাসপাতালের সামনে দেখা করার প্রস্তাব দেন। নির্ধারিত স্থানে পৌঁছানোর পর আরেক নারী ভুক্তভোগীকে রিকশায় করে খিলগাঁওয়ের একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।
ডিবি সূত্র জানায়, ফ্ল্যাটে ঢোকার কিছুক্ষণ পর আরও চারজন সেখানে উপস্থিত হয়ে ভুক্তভোগীর ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় ভিডিও ধারণ করেন তারা। পরে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, নগদ অর্থ, ব্যাংকের এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর ভুক্তভোগীর কাছে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং তার ব্যাংক হিসাব থেকে বিকাশ ও উপায়ের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ১০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে চক্রটি। সেইসঙ্গে ধারণকৃত আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল তাকে। এ ঘটনায় গত ২২ জুন খিলগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের হয়।
সোমার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন ডিবির সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার ও শনিবার সবুজবাগ, বাড্ডা ও খিলগাঁও এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। এসময় তাদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল ফোন, ১টি ওয়াকিটকি ও নগদ ৪ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, চক্রটি বিভিন্ন কৌশলে একাধিক ব্যক্তিকে ফাঁদে ফেলে নির্যাতন এবং আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।




