মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রাম পর্যায়ে পৌঁছে দিতে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা

ছবি: আগামীর সময়
দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গ্রাম ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার। বলেছেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা গেলে মানসিক স্বাস্থ্যসংকট অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।’
আজ রবিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটে ‘মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির অধিকার ও কাঠামো সংস্কার’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেছেন।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, ‘সম্প্রতি মারা যাওয়া দুলালি নামের নারী প্রায় দুই বছর ধরে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছেন। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, আমরা তাকে চিহ্নিত করতে পারিনি। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে গিয়ে চারটি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে হয়েছে। এ ধরনের ভোগান্তি কমাতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন।’
তিনি বলেছেন, ‘দেশে জনসংখ্যার তুলনায় মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা খুবই কম। যেখানে আরও অনেক চিকিৎসক প্রয়োজন, সেখানে বর্তমানে প্রায় ৬০০ জনের মতো বিশেষজ্ঞ রয়েছেন। মানসিক স্বাস্থ্য কাউন্সেলিংয়ের সুযোগও বাড়াতে হবে।’
মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধে পারিবারিক ও সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন জিয়াউদ্দিন হায়দার। বলেছেন, ‘কোনো সমস্যায় পড়লে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। একসময় মানুষ প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটাত, এখন সেই সামাজিক বন্ধন দুর্বল হয়ে গেছে। ফলে একাকিত্ব বাড়ছে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি গ্রাম ও ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর্মী থাকবে। মাসে অন্তত একবার হলেও মানুষের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের অংশ হিসেবে যুক্ত করারও পরিকল্পনা রয়েছে।’
আলোচনাসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেছেন, ‘আত্মহত্যা একটি নীরব মহামারীর মতো। কোনো ঘটনা ঘটার পর কিছুদিন আলোচনা হয়, পরে তা চাপা পড়ে যায়। অথচ দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষের সংখ্যা তিন কোটিরও বেশি। তাদের প্রায় ৬০ শতাংশ কোনো ধরনের চিকিৎসা গ্রহণ করেন না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেহজাবিন হক বলেছেন, ‘২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষার্থী কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছে। শিশুদের খাওয়ানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার তাদের স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। বর্তমানে অনেক শিশু অভিযোগ করে যে, তাদের কথা বাবা-মা শোনেন না। একাকিত্ব বাড়ার কারণে মানুষ নিজের অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ হারাচ্ছে, যা আত্মহত্যার ঝুঁকি বাড়ায়।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেছেন, ‘মানসিক স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়াতে হলে জেলা, উপজেলা ও কমিউনিটি পর্যায়ে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। তখন প্রয়োজন অনুযায়ী সরকার অর্থায়ন করতে সক্ষম হবে।’




