কৃষিমন্ত্রী
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কীটনাশকের মান নিয়ন্ত্রণ জরুরি

দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে কীটনাশকের আমদানি, নিবন্ধন, মান যাচাই এবং ল্যান্ডিং পয়েন্ট থেকেই কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ। তার মতে, শুধু কৃষকদের সচেতন করলেই নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থায় কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।
আজ রবিবার রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন কৃষিমন্ত্রী।
কৃষিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে বিশ্বে শুধু খাদ্যের পরিমাণ নয়, নিরাপদ ও মানসম্পন্ন খাদ্যের চাহিদাই বেশি। বাংলাদেশের উর্বর মাটি, অনুকূল জলবায়ু, পর্যাপ্ত সূর্যালোক ও বৃষ্টিপাতকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি জানান, অনেক ক্ষেত্রে ফসল সংগ্রহের অল্প সময় আগে কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। এতে খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ থেকে যায়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এ সমস্যা সমাধানে কৃষকদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কীটনাশকের উৎপাদন, আমদানি ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি ধাপে কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।
কৃষিপণ্যের রপ্তানি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে আমিন উর রশিদ বলেছেন, আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত প্যাকিং ব্যবস্থা চালুর পর বাংলাদেশের আম রপ্তানিতে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে কাঁঠাল, মাংসসহ অন্যান্য কৃষিপণ্যেরও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রপ্তানি বাড়াতে উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও সরবরাহের প্রতিটি ধাপে আন্তর্জাতিক মান এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তার ভাষ্য, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন আগামী দিনের কৃষির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরির জন্যও এটি অপরিহার্য। এ লক্ষ্য অর্জনে কৃষি গবেষক, বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিয়ে আধুনিক,পরিবেশবান্ধব ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুছ ছালামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মাহমুদুর রহমান।




