অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকার বকেয়া আটকে রাখার অভিযোগ

সংগৃহীত ছবি
ন্যায্য বকেয়া পাওনা আদায়ের জন্য শিক্ষা সচিবের দ্বারস্থ হয়েছেন রাজধানীর আর কে চৌধুরী কলেজের অর্থনীতি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী অধ্যাপক হাসিনা আক্তার। গত ২০ জুন শিক্ষা সচিবের কাছে একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন তিনি।
আবেদনে কলেজের অধ্যক্ষ উৎপল পাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে বকেয়া টাকা আটকে রাখা এবং বৈষম্যমূলক আচরণ করার অভিযোগ এনেছেন তিনি।
জানা যায়, দীর্ঘ কর্মজীবন পার করে ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যান হাসিনা আক্তার। বর্তমানে আর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত তিনি। অর্থের অভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছেন না। চিকিৎসার খরচ মেটাতে চাকরি জীবনের অর্জিত বাড়িভাড়া ও বকেয়া বেতন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে তার।
হাসিনা আক্তার জানিয়েছেন, অবসর গ্রহণের পর তিন বছর অতিবাহিত হলেও তার ন্যায্য পাওনা পরিশোধের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি কলেজ কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে কলেজ প্রশাসনের কাছে কলেজের অংশ বাবদ তার বাড়িভাড়া ও বকেয়া বেতন হিসেবে পাওনা রয়েছে ৫ লাখ তেতাল্লিশ হাজার টাকা। জীবনের শেষ সময়ে এসে এই বিপুল পরিমাণ অর্থপ্রাপ্তির অনিশ্চয়তা সামাজিক, আর্থিক ও মানসিকভাবে সংকটে ফেলেছে তাকে।
তিনি আবেদনে উল্লেখ করেন, বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য কলেজের অধ্যক্ষ উৎপল পাল চৌধুরী কোনো পদক্ষেপ নেননি। শিক্ষিকার দাবি, তিনি অধ্যক্ষের রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিন্নমত লালন করেন এবং তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা মহিলা দলের সহসভাপতি ও মহিলা এমপি প্রার্থী ছিলেন। এজন্যই তার সঙ্গে অমানবিক ও বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে।
তিনি জানান, সমসাময়িক বা পরে যারা ওই কলেজ থেকে অবসর নিয়েছেন, তাদের পাওনা টাকা পরিশোধ করা হলেও তার পাওনা আটকে রাখা হয়েছে।
শিক্ষিকার আবেদনের পর কলেজের অধ্যক্ষ উৎপল পালের সঙ্গে কথা বলেছেন মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মাইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল। তিনি জানিয়েছেন, হাসিনা আকতারের পাওনা টাকা পরিশোধে কোনো সহযোগিতা করছেন না কলেজ অধ্যক্ষ।
পরে এ বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ উৎপল পালের মোবাইল ফোনে বারবার কল দিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক জানিয়েছেন, আবেদনপত্র এখনো তার কাছে উপস্থাপন হয়নি, আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তিনি।




