হাজারীবাগে স্কুলছাত্রী হত্যার ঘটনায় যুবক আটক

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর হাজারীবাগে স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় আটক করা হয়েছে সিয়াম নামের ছেলেকে। তার কাছ রক্তমাখা পোশাক ও ছুরি উদ্ধার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার ভোরে তাকে আটক করে পুলিশ।
হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাজারীবাগের হায়দার আলী হোটেল গলিতে বুধবার রাতে বাসার সামনেই ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় ১৪ বছরের শারমিন বিন্তিকে। তার মায়ে বক্তব্যে সন্দেহভাজন হিসেবে উঠে আসে সিয়ামের নাম।
এলাকার দুটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে ঘটনাটি। প্রথম ফুটেজে এক যুবকের সঙ্গে হাঁটতে দেখা গেছে বিন্তিকে। পরের ফুটেজে ছেলেটিকে দেখা যায় একা। হাতে থাকা ছুরি পরিষ্কার করছিলেন তিনি। ফুটেজে মেয়েটির চিৎকারও শোনা যায়।
ঘটনাস্থলে থাকা বিন্তির পাশের বাড়ির এক নারী জানান, ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত মেয়েটি তার গায়ে ঢলে পড়েই বলতে থাকে, ‛সিয়াম ছুরি দিয়ে মেরেছে’।
পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে প্রায় এক ঘণ্টা পর মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
১৪ বছরের শারমিন বিন্তির বাড়ি শরীয়তপুরের সখিপুর থানার কাছিকাটা গ্রামে। হাজারীবাগের হায়দার আলী হোটেলের পাশে একটি ভাড়া বাড়িতে পরিবারের সাথে থাকত সে। পড়ত রায়েরবাজার হাইস্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে।
হাসপাতালে নিহত কিশোরীর বাবা বেল্লাল হোসেন জানালেন, রাতে বিন্তি তার ছোট ভাই নাবিলের সঙ্গে বাইরে যায়। কিছুক্ষণ পর বাসার নিচে হৈ চৈ শুনে নিচে নেমে দেখেন রক্তাক্ত পড়ে আছে মেয়ে।
নিহতের কাঁধে ও পিঠে একাধিক জখম আছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক।
প্রাথমিক তদন্তের পর হাজারীবাগ থানার ওসি হাফিজুরের বক্তব্য, 'প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে ছুরিকাঘাত করে মেয়েটিকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এখন পর্যন্ত এর বেশি কিছু জানতে পারিনি।'
তবে পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন বিন্তিকে উত্যক্ত করত 'সিয়াম' নামের এক তরুণ। হামলাকারী হিসেবে তাকেই সন্দেহ করছেন বিন্তির মা-বাবা।

