ডিএমপি
মুক্তিপণের জন্য ধস্তাধস্তি, একপর্যায়ে রাকিবের ঘাড় মটকে দেন মামুন

ছবি: ডিএমপির পেজ থেকে নেওয়া।
রাজধানীর কাফরুলে ১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী মো. রাকিবুল ইসলাম হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি)। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকার (২৪) নামে একজনকে।
আজ বুধবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মহিদুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য রাকিবকে বাসায় ডেকে নেওয়ার পর ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার ঘাড় মটকে দেন মামুন। এতে রাকিবের মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ কার্টনে ভরে নীলফামারীর ডিমলায় নিজের বাড়ির সামনে সুপারি বাগানে মাটিচাপা দেন মামুন।
মামুনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ডিমলা থানা পুলিশের সহায়তায় তার দেখানো স্থান থেকে কার্টনে ভর্তি অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার বড় ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন মরদেহটি শনাক্ত করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, রাকিব পূর্ব শেওড়াপাড়ার একটি মেসে থাকতেন। এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য তিনি ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে তাকে বাসার বাইরে ডেকে নেওয়া হয়। এরপর তিনি আর বাসায় ফেরেননি।
পরে রাকিবের পরিবারের কাছে ফোন ও অনলাইন যোগাযোগমাধ্যমে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ছেলেকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরে মোট ৪ লাখ টাকা পাঠান।
এ ঘটনায় রাকিবের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম জীবন কাফরুল থানায় একটি নিখোঁজ সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মামলা করা হয়।
রাকিবকে উদ্ধারে তদন্তে নামে কাফরুল থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মুক্তিপণ দাবিতে ব্যবহৃত দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের ব্যবহারকারী হিসেবে মামুনকে শনাক্ত করা হয়। পরে গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন শুক্রাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মামুন জানায়, কয়েক মাস আগে অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। গত ১৬ সেপ্টেম্বর হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে রাকিবকে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে ডেকে নেন তিনি। পরে তাকে শুক্রাবাদে নিজের বাসায় নিয়ে যান।
মামুনের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে মুক্তিপণের টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়ার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। তখন তিনি রাকিবের ঘাড় মটকে দেন। এতে রাকিবের মৃত্যু হয়।
পরে মরদেহটি একটি কার্টনে ভরে কসটেপ দিয়ে মুড়িয়ে অটোরিকশায় করে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান মামুন। সেখান থেকে বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে নীলফামারীর ডিমলায় যান। ১৭ সেপ্টেম্বর নিজের বাড়ির সামনে সুপারি বাগানে গর্ত করে কার্টনসহ রাকিবের মরদেহ মাটিচাপা দেন।
এ ঘটনায় মামুনের কাছ থেকে মুক্তিপণের টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করার জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত কি না এবং মুক্তিপণের অর্থ লেনদেনসহ ঘটনার অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে জানিয়েছে ডিএমপি।




