ঈদের দিনেও প্রেস ক্লাবের সামনে শিক্ষকদের ধর্মঘট!

ছবি: আগামীর সময়
বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত ও ২০২৫ সালের নীতিমালা অনুযায়ী যাচাই-বাছাই করা স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোর এমপিও দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ঈদের দিনেও অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষক কল্যাণ সমিতির ব্যানারে তারা অব্যাহত রাখেন এই কর্মসূচি। একই সঙ্গে চূড়ান্ত অনুমোদনপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বেতন ছাড়ের দাবিও জানান তারা।
প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থানরত শিক্ষক নাসিমুল জানালেন, তাদের একটি প্রতিনিধিদল জিয়া উদ্যানে গিয়েছে, সেখানে তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করবে।
শিক্ষক নেতারা জানান, গত ২১ মে থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান ধর্মঘট ঈদের দিনেও অব্যাহত রয়েছে। তারা বলছেন, এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকায় শিক্ষকরা চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন।
আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের গণবিজ্ঞপ্তির আলোকে ২০২৫ সালের নীতিমালা অনুযায়ী গত জুলাই মাসে এমপিও আবেদন সম্পন্ন হলেও প্রায় ১০ মাসেও কোনো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত হয়নি।
প্রেস ক্লাবের সামনে ধর্মঘটে অংশ নেওয়া শিক্ষক আব্দুল গণি জানান, প্রায় ১ হাজার ৬৯০ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা ছাড়াই মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চূড়ান্ত অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত বেতন না পাওয়ার বিষয়টিও তারা তুলে ধরেন।
জানা গেছে, পূর্বে আলিয়া মাদ্রাসার প্রাথমিক স্তর অনুমোদন, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার স্বীকৃতি, ভাতা ও উপবৃত্তি চালুর মতো উদ্যোগ থাকলেও এখনো এসব প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত হয়নি। ফলে শিক্ষকরা চাকরির নিরাপত্তা ও আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শিক্ষকরা দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণার পরও জাতীয়করণ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন না হওয়ায় তাদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তাদের দাবি, ২০১৩ সালে সরকার ২৬ হাজার ১৯টি রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করলেও একটি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাও জাতীয়করণ বা এমপিওভুক্ত করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা চাকরির নিরাপত্তা ও আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
১৯৭৮ সালের অধ্যাদেশের আওতায় আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাথমিক স্তরের অনুমোদন দেওয়া হয় এবং ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে স্বীকৃতি প্রদান করে। পরে ১৯৯৪ সালে এসব মাদ্রাসার শিক্ষকদের ভাতা প্রদান শুরু হয় এবং ২০০১ সালে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক ও উপবৃত্তি চালু করা হয়।







