কারিগরি বোর্ডের সনদ-নম্বরপত্র বানাতেন পল্টনের ডিজাইনার
- কারিগরি বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্ট শামসুজ্জামানসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর পল্টনে একটি গ্রাফিক্স ডিজাইনের দোকানে কাজ করতেন কামরুল হাসান আবেদ। তিনি খিলগাঁও থানাধীন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। ওই বাসায় বসেই কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের জাল সনদ ও নম্বরপত্র তৈরি করতেন তিনি। চুক্তি অনুযায়ী টাকা গ্রহণ করে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্ট প্রকৌশলী এ কে এম শামসুজ্জামানসহ অন্য আসামিদের কাছে সরবরাহ করতেন।
জালিয়াতির মাধ্যমে সার্টিফিকেট ও মার্কশিট ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি এবং অর্থ আত্মসাতের মামলায় শামসুজ্জামানসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। ওই অভিযোগপত্রে জালিয়াতির এমন তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি তদন্ত শেষে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক হুমায়ুন কবির আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সিস্টেম অ্যানালিস্ট প্রকৌশলী এ কে এম শামসুজ্জামানের সঙ্গে কামরুল হাসান আবেদ, মো. নাসির উদ্দিন অভি ও মো. আব্দুল বাসেতকে অভিযুক্ত করা হয়। তাদের মধ্যে নাসির ও বাসেত সূচনা থেকেই পলাতক। অন্য দুজন রয়েছেন জামিনে।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক হুমায়ুন কবিরের ভাষ্য, আসামি কামরুল হাসানের জবানবন্দিতে শামসুজ্জামানসহ অন্য আসামিদের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ পেয়েই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছি। বিচার শুরু হলে সাক্ষীরা আদালতে অভিযোগ প্রমাণ করবে।
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে টাকার বিনিময়ে একটি চক্র ভুয়া সার্টিফিকেট ও মার্কশিট বিক্রি করত। তারা জালিয়াতি করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করত। তদন্তে চক্রের কয়েকজনের নাম এসেছে। এ ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিতে রাষ্ট্রপক্ষ ভূমিকা রাখবে।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, কাজের সুবাদে অভি নামের এক লোকের সঙ্গে কামরুলের পরিচয় হয়। অভি তাকে কিছু কাজ করে দেওয়ার জন্য বলেন। এ কাজের জন্য আগারগাঁও একটি কফিশপে ডেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কয়েকজন লোকের সঙ্গে পরিচয় করে দেন। তারা কামরুল হাসান আবেদকে ৫০০ পিস সার্টিফিকেট ও ৫০০ পিস মার্কশিট ব্যাকগ্রাউন্ড প্রিন্ট করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। কামরুল অনুমতিপত্র চাইলে বাসেত ও শামসুজ্জামান তাকে অনুমতিপত্র প্রদান করেন।
এজন্য তিনি ফকিরাপুর থেকে কাগজ সংগ্রহ করেন। পরে খিলগাঁও পূর্ব গোড়ানের ভাড়া বাসায় বসে ৫০০ পিস সার্টিফিকেট ও ৫০০ পিস মার্কশিট ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরি করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সরকারি জাল সার্টিফিকেট ও মার্কশিটের ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরির অভিযোগে কামরুল হাসান আবেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তখন কামরুল দাবি করেন, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৫০০ পিস সার্টিফিকেটের ব্যাকগ্রাউন্ড ও ৫০০ পিস মার্কশিটের ব্যাকগ্রাউন্ড তৈরির ক্ষমতাপত্র আছে, সেজন্য সার্টিফিকেট ব্যাকগ্রাউন্ড ও মার্কশিট ব্যাকগ্রাউন্ড ছাপানোর কাজ করছে। তখন তার কাছে ক্ষমতাপত্র চাইলে একটি অনুমতিপত্র বের করে দেন।
তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কেফায়েতুল্লাহের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তারা বিজি প্রেস ছাড়া কোথাও তাদের বোর্ডের সার্টিফিকেট, মার্কশিট এমনকি কোনো ধরনের দাপ্তরিক কাগজপত্র প্রিন্ট করেন না। এ ছাড়া কামরুল হাসান আবেদ নামে কাউকে চেনেন না এবং কোনো ধরনের অনুমতিপত্র দেননি।



