আদ্-দ্বীনের নির্বাহী পরিচালক
স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করিনি
- লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল কাল
- জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট
- এখনো ভর্তি ৬০ জন রোগী

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন
আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামীকাল মঙ্গলবার আপিল করবে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল— এমন অভিযোগও নাকচ করেছেন আদ্-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। আজ সোমবার বিকালে রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেছেন।
ডা. শেখ মহিউদ্দিন বললেন, ‘আদ্-দ্বীন হাসপাতাল আমার পেছনে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, আমি নিইনি— স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এমন বক্তব্য সঠিক নয়। লাইসেন্সসংক্রান্ত বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কোনো ধরনের অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়নি।’
তিনি জানিয়েছেন, হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার আপিল করা হবে। তবে সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে যেতে চায় না প্রতিষ্ঠানটি।
লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘এই ঘটনার ফলে যদি দেশের অন্য হাসপাতালগুলো নিজেদের ত্রুটি সংশোধনে উদ্যোগী হয়, তাহলে আমরা খুশি হব।’
হাসপাতালের অবকাঠামোগত ত্রুটি নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বললেন, ‘বুয়েটের প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের কাজ চলছে। এরই মধ্যে হাসপাতাল ভবনের নিচতলায় থাকা বেকারি বন্ধ করা হয়েছে। এতে প্রায় ৭০০ কর্মী কাজ করে।’
‘আমি বলেছি তাদের অন্য জায়গায় কাজের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে হাসপাতালের বাকি কাজও সম্পন্ন হবে’ বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রোগী স্থানান্তরের নির্দেশনা থাকলেও বর্তমানে হাসপাতালের আইসিইউতে ৫ জন, এনআইসিইউতে ৩৬ জন এবং শিশু ও গাইনি বিভাগ মিলিয়ে মোট ৬০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
ডা. শেখ মহিউদ্দিন বললেন, ‘প্রকৌশলীদের পরামর্শ অনুযায়ী হাসপাতাল ভবনে কার্বন ডাই-অক্সাইড ওয়াশ-আউট প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধিই কারণ ছিল বলে বিশেষজ্ঞ কমিটি মনে করে না। হাসপাতালের যেসব সমস্যা কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করবে, আমরা সেগুলো সমাধান করব। প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে লাইসেন্স ফিরে পাব বলে আশা করছি।’
এদিকে, আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে। আজ সোমবার জনস্বার্থে আবেদনটি করেন আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, এই রিটের সঙ্গে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই।
ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা সর্বোত্তম সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতাল-মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক, হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিএ)। সংগঠনটির অফিস সম্পাদক আরিফ মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ মন্তব্য করা হয়।





