ডিএমপি কমিশনার
ফাঁকা ঢাকায় বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয়
- জাতীয় ঈদগাহে থাকছে ৬ স্তরের নিরাপত্তা
- আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা

সংগৃহীত ছবি
ঈদের জামাত ও ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় ডিএমপি একটি সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেছেন, ‘জাতীয় ঈদগাহে ছয় স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মোবাইল প্যাট্রল, ফুট প্যাট্রল ও মোটরসাইকেল প্যাট্রল জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গুজব ও অপপ্রচার রোধে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে ডিএমপির সাইবার ইউনিট।’
আজ বুধবার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেছেন।
ডিএমপি কমিশনার বলেছেন, ‘জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে কেন্দ্র করে চার থেকে ছয় স্তরের নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। ঈদগাহ ময়দান ও আশপাশের এলাকায় এসবির সুইপিং টিম এবং সিটিটিসির ডগ স্কোয়াড ‘কে-নাইন’ দ্বারা সুইপিং করা হবে। পুরো ঈদগাহ এলাকা ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থান সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে এবং ডিএমপির অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে।’
ঈদগাহের সব প্রবেশপথে আর্চওয়ে, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর ও ম্যানুয়াল তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে। ঈদগাহ ময়দানের চারপাশে পিকেটিং ও লাইনিং ব্যবস্থা থাকবে। জাতীয় ঈদগাহে প্রবেশের প্রধান তিনটি পয়েন্ট— মৎস্য ভবন ক্রসিং, প্রেস ক্লাবের সামনে এবং হাইকোর্ট ক্রসিংয়ে বিশেষ তল্লাশি ও ব্যারিকেড ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য ওয়াচ টাওয়ারও স্থাপন করা হয়েছে।
ড্রোন মনিটরিংয়ের মাধ্যমে আকাশপথ থেকেও সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও সিটিটিসির সদস্যরা সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিতে নিয়োজিত থাকবেন। সোয়াট, বম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট স্ট্যান্ডবাই থাকবে। নারী মুসল্লিদের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, পৃথক প্রবেশ গেট ও বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
কমিশনার বলেছেন, ‘ঈদের ছুটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ত্যাগ করায় নগরীর অনেক আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা আংশিকভাবে ফাঁকা হয়ে গেছে। এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপট, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, অতীত অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে ঢাকা মহানগর পুলিশ একটি সমন্বিত, প্রযুক্তিনির্ভর ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।’
‘ঈদের ছুটিতে নগরীর অনেক আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা ফাঁকা হয়ে যাওয়ায় সেসব এলাকার নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মোবাইল প্যাট্রল, ফুট প্যাট্রল ও মোটরসাইকেল প্যাট্রল জোরদার করা হয়েছে। সিসিটিভির মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। ব্যাংক, এটিএম বুথ, শপিংমল, মার্কেট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাকর্মীদেরও দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে’—যোগ করেন তিনি।
‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিরোধে ডিএমপির সাইবার ইউনিট সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। যেকোনো ধরনের গুজব, উসকানিমূলক প্রচারণা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘পুলিশ নগরবাসীর জানমাল রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।’
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনার ও বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






