হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন
রাজধানীতে টিকার আওতায় আসছে শিশুরা

হাম-রুবেলা জরুরি টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬ নিয়ে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে প্রেস কনফারেন্স। ছবি: আগামীর সময়
রাজধানী ঢাকায় শিশুদের সুরক্ষায় শুরু হচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘হাম-রুবেলা জরুরি টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬’। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই কর্মসূচিতে ৯ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুরা বিনামূল্যে পাবে টিকা।
আজ রবিবার রাজধানীর সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, আগামী ২০ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে ক্যাম্পেইন। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত (সরকারি ছুটির দিন ছাড়া) এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় একযোগে চলবে ক্যাম্পেইন। ইতোমধ্যে টিকা দেওয়ার জন্য নগর জুড়ে নির্ধারণ করা হয়েছে বিভিন্ন স্কুল, কমিউনিটি ক্লিনিক এবং অস্থায়ী কেন্দ্র।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাম ও রুবেলার সংক্রমণ কমিয়ে আনা এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ানোই ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই টিকার প্রথম ডোজে হাম প্রতিরোধে প্রায় ৯৩ শতাংশ এবং রুবেলা প্রতিরোধে ৯৭ শতাংশ কার্যকর। দ্বিতীয় ডোজের পর আরও বাড়ে সুরক্ষা।
ঢাকা জেলার কয়েক লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশুর অনলাইন নিবন্ধন। বিশেষ করে নেওয়া হয়েছে নবাবগঞ্জ উপজেলার শিশুদের টিকার আওতায় আনার প্রস্তুতি।
অভিভাবকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ আহ্বান, শিশুদের টিকাদান নিশ্চিত করতে নির্ধারিত ওয়েবসাইটের (https://vaxepi.gov.bd) মাধ্যমে দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে নিবন্ধন। নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে শিশুদের।
এ ছাড়া দেওয়া হয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাও। যেমন— যদি কোনো শিশু জ্বর, অসুস্থতা বা অ্যালার্জিতে ভোগে, তাহলে তাকে সাময়িকভাবে টিকা না দেওয়ার পরামর্শ। একইভাবে গত ২৮ দিনের মধ্যে হাম-রুবেলার টিকা নেওয়া শিশুরা এই ক্যাম্পেইনের বাইরে থাকবে।
নির্ধারিত সময়ে টিকা নিতে না পারলেও দুশ্চিন্তা নেই। পরবর্তী সময়ে নিকটস্থ কেন্দ্র থেকে নেওয়া যাবে টিকা। এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবেন স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা, আশ্বস্ত করলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
‘একটি শিশুও যেন টিকার বাইরে না থাকে— এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য সহযোগিতা করবে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজ,’ জানালেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মত, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক। এটি শিশুদের জন্য তৈরি করতে পারে মারাত্মক ঝুঁকি। সময়মতো টিকা নিলেই শুধু এ রোগ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব। অভিভাবকদের সচেতন হয়ে নির্ধারিত সময়ে শিশুদের টিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, আগেও দেশে সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি। তাতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে সংক্রমণ। নতুন এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সেই সাফল্য আরও এগিয়ে নেওয়ার আশা স্বাস্থ্য বিভাগের।

