পুরান ঢাকায় দুর্গাপূজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি, কেনাকাটায় মন্দা

আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে পুরান ঢাকায় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা সাজানো, আলোকসজ্জা ও প্যান্ডেল নির্মাণে ব্যস্ত আয়োজকরা।
তবে উৎসবের আমেজ থাকলেও শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজারে আগের বছরের তুলনায় কমেছে পূজার কেনাকাটা। ক্রেতার উপস্থিতি ও বিক্রি কম থাকায় হতাশ ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, বিভিন্ন পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পূজাকেন্দ্রিক বেচাকেনায় প্রত্যাশিত সাড়া মিলছে না।
শাঁখারীবাজারে মণ্ডপ তৈরির কাজে ব্যস্ত নিমাই দাস জানিয়েছেন, পূজার প্রস্তুতি ভালোভাবেই চলছে। তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার মণ্ডপের সংখ্যা কমেছে। আগে শাঁখারীবাজারের রাস্তায় ৩০ থেকে ৩২টি প্যান্ডেল বসত। এবার বসবে ২২টি।
মণ্ডপের সংখ্যা কমার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘আগে মানুষের কাছে টাকা ছিল। বেশি বেশি মণ্ডপ করে দুর্গাপূজা করত। এখন টাকা নেই, তাই মানুষের পূজার প্রতিও আকর্ষণ কমেছে।’
বাজারে প্রসাধনসামগ্রী বিক্রি করেন কার্তিক চন্দ্র ধর। তিনি জানিয়েছেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার বিক্রি অনেক কম। পূজাকে কেন্দ্র করে বাড়তি ক্রেতার উপস্থিতিও নেই।
তিনি বলেছেন, ‘অন্যান্য বছর এই সময়ে ব্যবসা করে যে লাভ করতাম, এখন সেই টাকার বেচাকেনাও হয় না। মানুষের কাছে টাকা থাকলেও তারা কিনতে ভয় পায়। শখের জিনিস কেনার বদলে এখন শুধু প্রয়োজনীয় জিনিসই কিনছে।’
তাঁতীবাজারের ব্যবসায়ী জয়গোপাল কর্মকারও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘আগের পূজার সময় এই রাস্তায় মানুষের ভিড়ে দাঁড়ানো যেত না। আর এখন দেখেন, তেমন মানুষই নেই। মানুষের আগের মতো শখ নেই, আর কিনবেই বা কী?’
এদিকে পূজার কেনাকাটা করতে এসে বাড়তি দামের কারণে পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু কিনতে পারছেন না ক্রেতারাও। পরিবারের সঙ্গে কেনাকাটা করতে আসা সৌভিক শুভাম জানিয়েছেন, অনেক কিছু কেনার পরিকল্পনা থাকলেও পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় শুধু প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোই কিনছেন।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমা সাজানোর ফুলের মালা, মুকুট, পুঁতির মালা, অস্ত্র, শাড়ি, দেবীর চূড়ার সেট ও চুলসহ বিভিন্ন সরঞ্জামের দাম আগের তুলনায় বেড়েছে। এতে পূজার সামগ্রিক খরচও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পূজা কমিটির সদস্যরা।
দেবীর সাজসজ্জার সরঞ্জাম বিক্রেতা রিপন চন্দ্র জানিয়েছেন, এবার বেচাকেনা আগের তুলনায় কম। পূজার দিন এগিয়ে আসলে কেনাকাটা কিছুটা বাড়তে পারে।





