লালবাগে মাটি খুঁড়ে ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার, বন্ধু গ্রেপ্তার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
নিখোঁজের তিন দিন পর রাজধানীর লালবাগে বন্ধুর বাসার নিচ থেকে মাটি খুঁড়ে ব্যবসায়ী শেখ ওয়াসিম রনির (৪৭) অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হাত-পা বাঁধা এবং মুখে পলিথিন পেঁচানো অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।
আজ শুক্রবার ভোরে লালবাগ থানাধীন ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিসি দাস স্ট্রিটের ৯ নম্বর বাসার নিচতলার খালি জায়গা থেকে মাটি খুঁড়ে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
পাওনা ৩ লাখ টাকা চাওয়ায় তাকে হত্যা করে মাটি চাপা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন তার বন্ধু মাসুম (৪৬)। এ ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
লালবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল আলম সরকার জানিয়েছেন, লাশটি ছিল দুই ভবনের মাঝের ফাঁকা জায়গায় বালু-মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায়। হাত-পা বাঁধা ছিল। মুখে পলিথিন পেঁচানো ছিল।
শেখ ওয়াসিম রনি লালবাগের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। তিনি মৃত শেখ আব্দুল রহিমের ছেলে। বর্তমানে যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ শেখদী, শনির আখড়ায় থাকতেন। পেশায় তিনি জমি ব্যবসায়ী ছিলেন।
ব্যবসায়ী শেখ ওয়াসিম রনি গত ৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার ভাই শেখ আব্দুল করিম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডি হওয়ার পর তদন্তে নামে পুলিশ। নিহতের মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে তার বন্ধু মাসুমকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশ জানায়, জিডি করার সময়ও মাসুম থানায় এসেছিলেন। তিনি নিহতের বন্ধু। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ওয়াসিম রনিকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
মাসুমের ভাষ্য, শেখ ওয়াসিম রনি তার কাছে ৩ লাখ টাকা পেতেন। ওই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দিচ্ছিলেন ওয়াসিম। টাকা দেওয়ার কথা বলে ওয়াসিমকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন মাসুম। পরে প্রথমে তার মাথায় আঘাত করেন।
‘এরপর নিচে ফেলে হাত-পা বেঁধে দেন। মুখে কসটেপ ও পলিথিন পেঁচিয়ে লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাদের বাসার নিচে দুই ভবনের মাঝের ফাঁকা জায়গায় বালু-মাটি দিয়ে লাশ চাপা দিয়ে রাখা হয়’, স্বীকার করেন মাসুম।
মাসুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ ওই জায়গায় যায়। পরে বালু-মাটি খুঁড়ে ওয়াসিম রনির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শুক্রবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এসআই রেজাউল আলম সরকার বলেছেন, নিহতের স্ত্রী নুসরাত জাহান সিমা বাদী হয়ে মামলা করবেন। থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের বাকি কার্যক্রমও চলমান।



