শ্রমঘন শিল্পে দক্ষ জনবল তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার : শিল্পমন্ত্রী

প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ ও নিয়োগপত্র প্রদান করেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
অধিক জনসংখ্যা ও সীমিত ভূমির বাস্তবতায় শ্রমঘন উৎপাদনশিল্পের বিকাশ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম কার্যকর পথ বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, কম মূলধন বিনিয়োগে বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, এমন শিল্পখাতকে আগামী দিনে অগ্রাধিকার দেবে সরকার।
আজ ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) মিলনায়তনে বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) ‘কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (ফেজ-২)’ প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ ও নিয়োগপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘লেদার, ফুটওয়্যার এবং নন-লেদার বা সিন্থেটিক লেদারভিত্তিক শিল্প একসঙ্গে বড় পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। তাই আগামী দিনে সরকার যে শিল্পখাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেবে, তার মধ্যে এই খাত অন্যতম।’
তিনি আরও বলেন, দেশে উৎপাদনশিল্পের পরিধি যত বাড়বে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবলের চাহিদাও তত বাড়বে। সরকারি অর্থায়নে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মাধ্যমে বিটাক এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘বিটাকের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির একটি বড় সাফল্য হলো প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়া। প্রশিক্ষণার্থীরা দক্ষতা অর্জন করে সরাসরি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। এটাই এ ধরনের কর্মসূচির সবচেয়ে বড় সার্থকতা।’
তিনি জানান, আগামী দিনে এ প্রকল্পের আকার আরও বড় করা হবে এবং বিটাককে আরও আধুনিক ও সক্ষম করে গড়ে তোলা হবে। শিল্পের ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় বিটাকের প্রশিক্ষণ কারিকুলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব শিল্পব্যবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে দেশের সব পর্যায়ে ও সব পেশায় আধুনিক প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। এ লক্ষ্যে দেশ-বিদেশের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ কারিকুলাম উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘তিন মাসের প্রশিক্ষণ আপনাদের কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা মাত্র। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আপনারা শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনের ওরিয়েন্টেশন পেয়েছেন; কিন্তু পরবর্তী সময়ে শেখার দায়িত্ব আপনাদের নিজেদের। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতাকে পেশাগত জীবনে কাজে লাগানোর দায়িত্বও আপনাদেরই নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা প্রত্যেকেই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি থেকে উঠে এসেছেন। তিন মাসের প্রশিক্ষণ শেষ করে সার্টিফিকেট অর্জন করেছেন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করার দায়িত্ব আপনাদের নিজেদের।’
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শিল্পসচিব আব্দুন নাসের খান বলেন, শুধু একটি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলেই দায়িত্ব শেষ নয়। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অব্যাহত শিক্ষা ও নিজেকে প্রতিনিয়ত হালনাগাদ রাখার মানসিকতা থাকতে হবে। প্রযুক্তি ও শিল্পের চাহিদা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, কারিগরি দক্ষতা কোনোভাবেই উচ্চশিক্ষার চেয়ে কম মর্যাদার নয়। বিশ্বের আধুনিক শিল্প ও অর্থনীতির বিকাশে কারিগরি দক্ষতাসম্পন্ন মানুষের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিজেদের দক্ষতা ও জ্ঞান নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে।
বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্রের (বিটাক) মহাপরিচালক মো. সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিআইএমের মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিথি সচিব মো. নুরুজ্জামান, আরএফএলের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার তারেক আজিজ এবং ম্যাটাডোর গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার এইচ এম আল মামুন।
পরে মন্ত্রী প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদপত্র ও নিয়োগপত্র বিতরণ করেন। ‘আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচন (ফেজ-২)’ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৭২২ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৬৪২ জনের চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।





