জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে মানুষের ঢল, ইতিহাস ছুঁয়ে দেখার আগ্রহ

ছবি: আগামীর সময়
উদ্বোধনের প্রথম দিনেই দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি দেশের দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ ছুটে এসেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ও আত্মত্যাগের ইতিহাস জানতে।
জাদুঘর ঘুরে দেখে বেসরকারি চাকরিজীবী মো. সুমন বলেছেন, ‘এখানে এসে জানতে পারলাম, একজন স্বৈরশাসক কীভাবে বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন, আর ভিন্নমতের মানুষদের ওপর কতটা নির্মম নির্যাতন চালানো হতো। আয়নাঘরের মতো গোপন বন্দিশালা, নির্যাতনের নানা বর্ণনা, এমনকি মানুষের নখ উপড়ে ফেলার মতো ভয়াবহ ঘটনার তথ্যও জানতে পেরেছি। এগুলো দেখে সত্যিই গা শিউরে উঠেছে।’
তবে নির্যাতনের ইতিহাসের পাশাপাশি জাদুঘরের গ্রাফিতিগুলোও তার দৃষ্টি কেড়েছে। তিনি জানান, ‘গ্রাফিতিগুলো আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লেগেছে। এগুলো শুধু শিল্প নয়, আন্দোলনের চেতনা বহন করছে। তাই সবার মতো আমিও এখানে দাঁড়িয়ে ছবি তুলেছি, স্মৃতি হিসেবে রেখে দিতে চেয়েছি।’
একই রকম আবেগ নিয়ে জাদুঘরে এসেছেন পঞ্চগড়ের আব্দুর রহমান। তিনি জানান, তার মেয়ে ও জামাই ঢাকায় থাকেন। তবে তাদের সঙ্গে দেখা করার চেয়েও তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল উদ্বোধনের প্রথম দিনেই জাদুঘরটি দেখা।
আব্দুর রহমান বললেন, ‘আমি গতকাল রাতেই পঞ্চগড় থেকে রওনা দিয়েছি। সকালে ঢাকায় পৌঁছে সোজা জাদুঘরে চলে এসেছি। এই ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা একটি স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে জীবন দিয়ে দেশকে মুক্ত করেছে। তাদের আত্মত্যাগের স্মৃতিকে সম্মান জানাতে এবং সেই ইতিহাস নিজের চোখে দেখতে প্রথম দিনেই এখানে আসা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’
শুধু জাদুঘর দেখার জন্যই এত দূর থেকে এসেছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি হেসে বললেন, ‘অবশ্যই। এমন একটি জায়গা প্রথম দিনে না দেখলে চলবে? তাই চলে এসেছি। জাদুঘর দেখার পাশাপাশি ঢাকার আরও কয়েকটি জায়গা ঘুরে দেখব।’
প্রাইমারি শিক্ষক রানা মিয়া জানান, ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি নতুন প্রজন্মকে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, আত্মত্যাগ ও ইতিহাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার এক জীবন্ত দলিল। এখানে এসে অনেক অজানা ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারছি। সব মিলিয়ে একটি দুঃশাসন থেকে জাতিকে মুক্ত করার ইতিহাস জানানোর জন্য এটা একটা ভালো উদ্যোগ।’




