অনলাইনে বিক্রি হচ্ছিল হেরোইনের কাঁচামাল

সংগৃহীত ছবি
অনলাইনে মাদক বিক্রির কাঁচামাল বিক্রির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ক্রেতার পরিচয়, লাইসেন্স কিংবা ব্যবহারের উদ্দেশ্য যাচাই ছাড়াই মাদক তৈরির কাঁচামাল বিক্রি করছিল ই-কেম নামের একটি প্রতিষ্ঠান।
গ্রেপ্তার মো. আব্দুল মোমিন পাটোয়ারী প্রতিষ্ঠানটির তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপক। এ ঘটনায় করা মামলায় প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।
অনলাইনে বিক্রি করা ৫০০ মিলিলিটার এসিটিক এ্যানহাইড্রাইড ও এক লিটার এসিটোন রাজধানীর নিকেতন থেকে জব্দ করে ডিএনসি। পরে প্রগতি সরণীতে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে আরও রাসায়নিক ও নথি জব্দ করা হয়।
ডিএনসি জানিয়েছে, অনলাইনে বিভিন্ন রাসায়নিকের বিক্রির বিজ্ঞাপন নজরে আসে ডিএনসির গোয়েন্দাদের। ই-কেমের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক বিক্রি ও অর্ডার নেওয়ার তথ্য পেয়ে বিষয়টি যাচাই শুরু করেন তারা।
সংস্থাটির উপ-পরিচালক (গোয়েন্দা) মেহেদী হাসানের ভাষ্য, আমরা নিয়মিতভাবে সাইবার পেট্রোলিং অব্যাহত রেখেছি। এর মাধ্যমে অনেক অপরাধীকে এর আগেও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, মাদক তৈরিতে ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে এমন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক সাধারণ পণ্যের মতো অনলাইনে বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত ছিল। বিষয়টি নিশ্চিত করতে গোয়েন্দাদের পক্ষ থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ৫০০ মিলিলিটার এসিটিক এ্যানহাইড্রাইডের অর্ডার করা হয়।
ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, অর্ডার নেওয়ার সময় ক্রেতার কাছ থেকে নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক কেনার প্রয়োজনীয় অনুমোদন, লাইসেন্স কিংবা ব্যবহারের উদ্দেশ্যসংক্রান্ত কোনো নথি চাওয়া হয়নি। অর্ডার গ্রহণের পর প্রতিষ্ঠানটি পণ্য সরবরাহের উদ্যোগ নেয়।
২৪ আগস্ট ঢাকার গুলশান থানাধীন নিকেতন এলাকায় ওই পার্সেল পৌঁছালে সেখানে অভিযান চালায় ডিএনসির ঢাকা বিভাগীয় গোয়েন্দা দল। পার্সেল থেকে ৫০০ মিলিলিটার এসিটিক এ্যানহাইড্রাইড এবং এক লিটার এসিটোন জব্দ করা হয়।
পার্সেল সরবরাহকারী ডেলিভারিম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ই-কেমের কার্যালয়ের অবস্থানের সম্পর্কে তথ্য পায় ডিএনসি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রগতি সরণী এলাকায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়।
সেখানে প্রতিষ্ঠানের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল মোমিন পাটোয়ারীকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে আরও নিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক এবং এসব রাসায়নিক বিক্রির কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
ডিএনসি সূত্রের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত প্রিকারসর কেমিক্যাল বিক্রির ক্ষেত্রে ক্রেতার পরিচয় ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। অভিযানে ছয় লিটার রাসায়নিক পদার্থ জব্দ করা হয়েছে।
ডিএনসি কর্মকর্তারা বলছেন, এসিটিক এ্যানহাইড্রাইড সাধারণ শিল্প ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হলেও এর অপব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে মরফিন থেকে হেরোইন তৈরির প্রক্রিয়ায় এটি ব্যবহৃত হতে পারে। এ কারণে রাসায়নিকটির সরবরাহ ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত।
তাদের ভাষ্য, পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট কোকেন তৈরির প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হতে পারে। এসিটোন, ইথাইল ইথার, হাইড্রোক্লোরিক এসিড, মিথাইল ইথাইল কিটোন ও টলুইনের মতো রাসায়নিকও বিভিন্ন অবৈধ মাদক উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ২-এর উপধারা (১৯) অনুযায়ী, প্রিকারসর কেমিক্যাল হলো এমন রাসায়নিক পদার্থ, যা ক বা খ শ্রেণির কোনো মাদকদ্রব্য উৎপাদন অথবা প্রক্রিয়াজাতকরণে অত্যাবশ্যকীয় উপাদান বা উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। একই আইনের তফসিলেও এসব রাসায়নিকের তালিকা রয়েছে।






