আমিনুল হক
প্রতিটি ক্লাসে পাঁচ মিনিট নৈতিক শিক্ষা দিন

ছবি: আগামীর সময়
প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি অন্তত পাঁচ মিনিট নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করতে হবে। একটি শিক্ষিত জাতি গঠনে শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান যথেষ্ট নয়। মানবিকতা, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বার্ষিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক শিক্ষকদের এ আহ্বান জানান।
আমিনুল হক বললেন, ‘একই দিনে রূপনগরের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং পল্লবীতে ৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণও দেওয়া হয়।’
‘বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ। বর্তমান সমাজে এ দুই ক্ষেত্রের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।’—যোগ করেন তিনি।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘পরিস্থিতি এমন তৈরি হয়েছে অনেক বাবা-মা নিজেদের সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলতেও সংকোচ বোধ করেন। এটি সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। এই নৈতিক অবক্ষয় থেকে বেরিয়ে আসতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।’
শিক্ষকদের উদ্দেশে আমিনুল হক বললেন, ‘পাঠদানের পাশাপাশি প্রতিটি ক্লাসে অন্তত পাঁচ মিনিট নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ নিয়ে আলোচনা করুন। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।’
‘একসময় যৌথ পরিবারের সংস্কৃতি ছিল। বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই একসঙ্গে বসবাস করতেন। এখন অনেকেই বিয়ের পর আলাদা হয়ে যাওয়াকে স্বাভাবিক মনে করেন। পারিবারিক ও সামাজিক এই মূল্যবোধ পুনরুদ্ধার করা সময়ের দাবি।’—জানালেন তিনি।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রসঙ্গ টেনে আমিনুল হক বললেন, ‘বর্তমানের তরুণ ও ‘জেন জি’র হাতেই আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব থাকবে। তাই তাদের মানবিক, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।’
একপর্যায়ে নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের প্রসঙ্গ টেনে হালকা রসিকতা করেন আমিনুল হক। তিনি বললেন, ‘ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্রাজিল সমর্থকেরা হয়তো কিছুটা হতাশ। আর আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা নতুন স্বপ্ন দেখছেন। তবে তিনি সব দলের সমর্থকদের প্রতি শুভকামনা জানান।’
সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব তুলে ধরেন আমিনুল হক। বললেন, ‘প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, বাবা-মা কিংবা সন্তান—সবার সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই মূল্যবোধ গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতের সমাজ আরও সুন্দর ও মানবিক হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আরও বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।




