দেশীয় টায়ার শিল্প রক্ষায় আমদানি শুল্ক বহালের দাবি

সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করেন সংগঠনটির নেতারা। ছবি: আগামীর সময়
দেশীয় টায়ার শিল্পের সুরক্ষা ও বিকাশে আমদানি করা টায়ারের ওপর বিদ্যমান শুল্ক বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টায়ার-টিউব ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমইএ)। একই সঙ্গে দেশে টায়ার উৎপাদনে ব্যবহৃত রাবারসহ বিভিন্ন কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিটিএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মেঘনা টায়ারের সিইও লুৎফল বারী, আরএফএল গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার ও সংগঠনের সদস্য মো. শরিফুল ইসলাম, রূপসা টায়ারের প্রতিনিধি ও ভাইস প্রেসিডেন্ট মিরাজ রহমান, আকিজ ভেঞ্চারের জিএম (অব.) মেজর আরিফুর রহমান, এপেক্স হোসেন টায়ারের প্রতিনিধি ও সদস্য পারভেজ তুহিন, যমুনা টায়ারের জিএম সোহেল রহমান এবং মেঘনা টায়ারের জিএম মুস্তাফিজুর রহমানসহ অন্যান্যরা।
সংগঠনের নেতারা প্রস্তাবিত বাজেটে লাইট ট্রাকের টায়ার আমদানির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ, কৃষি টায়ার আমদানিতে মূল্য সংযোজন কর আরোপ এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন ও সংশ্লিষ্ট শিল্পে শুল্ক-কর সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানান। এ জন্য সরকার ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লুৎফল বারী বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত নীতি সহায়তা ও শুল্ক সুরক্ষার অভাবে দেশের টায়ার ও টিউব শিল্প সংকটের মধ্যে রয়েছে। শুল্ক সুরক্ষার অভাবে ইতোমধ্যে কয়েকটি টায়ার কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের প্রস্তাবিত বাজেটে নেওয়া কিছু পদক্ষেপ এ খাতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।’
তিনি বলেছেন, দেশীয় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ও নতুন বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে আমদানি করা লাইট ট্রাকের টায়ারের ওপর আরোপিত সম্পূরক শুল্ক বহাল রাখতে হবে। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের টায়ার আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ এবং কৃষি টায়ারের শুল্ক আরও বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, দেশে টায়ার উৎপাদনের জন্য আমদানি করা রাবারের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি (সিডি) এবং আয়রন ওয়্যার ও এমএস নিপলের ওপর ৫ শতাংশ রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি) প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।
তার ভাষ্য, কাঁচামালের ওপর শুল্ক বাড়ানো হলে দেশীয় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাবে।
বিটিএমইএর নেতারা বলেছেন, ‘সরকার শিল্প খাতের বিকাশে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচি ঘোষণা করলেও কিছু আমদানিকারক লাইট ট্রাকের টায়ারের ওপর আরোপিত শুল্ক কমানোর দাবি জানাচ্ছেন, যা দেশীয় শিল্পের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করবে।
তাদের মতে, নিজেদের শিল্প সুরক্ষায় ভারত ইতোমধ্যে টায়ার আমদানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ করেছে।
টায়ার আমদানিকারকদের পক্ষ থেকে ১৬ ইঞ্চি টায়ারের ৯০ শতাংশ চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ হয় বলে যে দাবি করা হচ্ছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিটিএমইএ। লুৎফল বারী বলেছেন, সংগঠনের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো গত এক দশক ধরে একই ধরনের টায়ার উৎপাদন করে আসছে এবং এসব পণ্যের মান নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অভিযোগ নেই। পর্যাপ্ত নীতি সহায়তা না পাওয়ায় শিল্পটি প্রত্যাশিতভাবে বিকশিত হয়নি। তবে প্রস্তাবিত বাজেট কার্যকর হলে দেশীয় উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেছেন, ‘ট্রাকের টায়ার আমদানির ওপর শুল্ক আরোপে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে বা অবৈধ আমদানি বৃদ্ধি পাবে—এমন দাবি বাস্তবসম্মত নয়।’
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য তুলে ধরে লুৎফল বারী বলেছেন, ‘দেশে বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ নিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে। দেশীয়ভাবে মোটরসাইকেলের টায়ার উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও এই খাত এখনো অনেকাংশে আমদানিনির্ভর। ব্যবহারকারী ও সংযোজনকারী পর্যায়ে বছরে প্রায় ২৫ লাখ মোটরসাইকেল টায়ারের চাহিদা রয়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।’
তিনি বলেছেন, ‘পর্যাপ্ত শুল্ক সুরক্ষার অভাবেই মোটরসাইকেল টায়ার খাতে আমদানিনির্ভরতা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে মোটরসাইকেলের টায়ার আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ করা প্রয়োজন। এতে দেশীয় শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।’




