রামিসা হত্যা : সোহেলের জবানবন্দি তুলে ধরল রাষ্ট্রপক্ষ

সংগৃহীত ছবি
রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধষর্ণের পর হত্যা মামলার যুক্তিতর্কে আদালতে সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি তুলে ধরেছেন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে এ জবানবন্দি তুলে ধরেন।
গত ২০ মে সোহেল রানা আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। সেই জবানবন্দিতে সোহেলের ভাষ্য ছিল, বাসার সবাই ভোরে কাজে চলে যান। আমি নিয়মিত নেশা করি। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসাকে পেয়ে ডেকে নিই ৷ তার মুখ বেঁধে ধর্ষণ করি। ভাবি সে মারা গেছে। তাই লাশ ঘুম করার জন্য ঘর থেকে ছুরি নিয়ে আসি। রামিসার দেহ থেকে মাথা কেটে আলাদা করি। দুই হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করি। বিচ্ছিন্ন মাথাটি আমার খাটের নিচে বালতিতে রাখি। সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে রামিসাকে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। আমার দরজার সামনে রামিসার জুতা দেখে ডাকাডাকি করে। ভয় পেয়ে গ্রিল কেটে পালিয়ে যাই।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামি সোহেল রানা কৌশলে পঞ্চম তলা বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলার একটি রুমে নিয়ে যায়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে রামিসার জুতা দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করে তার মা। সাড়াশব্দ না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে এসে ভেতরে প্রবেশ করেন। সোহেল ও স্বপ্নার শোয়ার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পায়। স্বপ্না সেখানে দাঁড়ানো ছিল।
ঘটনার দিন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মাত্র পাঁচ দিনে তদন্ত শেষে গত ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন। এতে আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়।
ওইদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে বিচারে প্রস্তুত হওয়ায় মামলাটি বদলির আদেশ দেন। একই দিন ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে নিয়ে অভিযোগ গঠন শুনানির জন্য ১ জুন দিন ধার্য করেন।




