রাজধানীতে স্বল্প আয়ের মানুষ ঝুঁকছেন মাটির চুলায়
- গ্যাসের তীব্র সংকট

ছবি: আশিকুর রহমান। আগামীর সময়
ঢাকায় চলমান গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর বহু এলাকায় বাসাবাড়ি, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। কোথাও সারাদিন গ্যাস মিলছে না, আবার কোথাও শুধু গভীর রাতে স্বল্পচাপে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার, বৈদ্যুতিক চুলা বা বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করছেন। আর স্বল্প আয়ের মানুষ কী করবেন? তাদের সক্ষমতা রয়েছে সর্বোচ্চ ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার হিটার কেনার। সেই হিটারও এখন ব্যবহার করার উপায় নেই, বিদ্যুতের দাম চড়া।
ফলে রাজধানীতে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো গ্যাস সংকট থেকে বাঁচতে ব্যবহার শুরু করেছেন মাটির চুলা। তবে যাদের কপালে দুঃখ থাকে, হয়তো সব দিক থেকেই দুঃখ আসতে থাকে। বৃষ্টির কারণে এখন শুরু হয়েছে খড়ির সংকট। এ কারণে অনেক পরিবার খড়ি দিয়ে একবেলা রান্না করেন, আবার তিন-চার পরিবার মিলেও একসঙ্গে রান্না করছেন কোথা কোথাও।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিং এলাকায় গ্যাসের সংকট তীব্র। ফলে এই এলাকার কিছু বাসা বাড়িতে গ্যাস না থাকায় মাটির চুলায় রান্না করছেন নারীরা। আবার বৃষ্টির কারণে খড়ির সংকটে অনেককে একবেলাও রান্না করতে হচ্ছে। গ্যাসের এই সংকটের সময়ে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার নবোদয় হাউজিং এলাকায় একাধিক পরিবার এখন মাটির চুলা পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন। একই চিত্র দেখা গেছে টাউন হল এলাকা ও শের শাহ সূরী রোডেও।
মাটির চুলায় রান্না করছিলেন গৃহবধূ আমেনা। তিনি বলছিলেন, ‘লাইনের গ্যাস না থাকায় আমাগো রান্না কষ্ট হইয়া যায়। এইখানে যে আমরা সিলিন্ডার গ্যাস কিনমু, সেইটা অনেক খরচের ব্যাপার। আবার কারেন্টের চুলাও কেনা খরচের ব্যাপার। উপায় না পাইয়া দেখছি, এই মাটি-সিমেন্টের চুলাই একমাত্র ভরসা। একটু সমস্যা হইতাছে, কিন্তু উপায় কী?’
মাটির চুলায় রান্নার সমস্যাও রয়েছে। জোগাড় করতে হয় খড়ি। তবে গ্যাস সংকটের মুখে এটাই যেন সহজ, বলছিলেন গৃহবধূ খুশি। তবে বৃষ্টির কারণে শুকনো খড়ি পাওয়াও কঠিন হয়ে গেছে। তার ভাষ্য, ‘লাকড়ি জোগাড় করা খুব একটা কঠিন ছিল না। কিন্তু কয়দিন ধইরা বৃষ্টি পড়তাছে। কাঠের দোকানগুলা থিকা কিন্না আনতে পারি। সেইখানেও খড়ি নাই। আমরা এখন একবেলা রান্না করতাছি।’
এদিকে, রাজধানীর শহরতলীগুলোয় ঘুরে দেখা গেছে স্বল্প আয়ের মানুষ নিয়মিতভাবেই মাটির চুলায় অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছেন। পোস্তগোলা, কামরাঙ্গীরচর, ভাটারা, যাত্রাবাড়ীর অনেক এলাকায় স্বল্প আয়ের মানুষ গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছেন মাটির চুলাকে।
এদিকে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরবরাহ ঘাটতি এবং পাইপলাইন-সংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার কারণে সংকট দ্রুত পুরোপুরি কাটার সম্ভাবনা কম। তারা ধাপে ধাপে গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। তবে আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তি আরও কিছুদিন থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।






