মগবাজারে ক্রেন দুর্ঘটনায় প্রকৌশলীর মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি

ছবি: আগামীর সময়
রাজধানীর মগবাজারে নির্মাণকাজের সময় ক্রেনচাপায় আহত প্রকৌশলী এ বি এম আহসান উল্লাহ আরিফের মৃত্যুর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে তার পরিবার।
আজ রবিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ওলানা আকরম খাঁ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান নিহতের বড় ভাই ও ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ এর সদস্য ডা. এ বি এম ইয়াছিন উল্লাহ শরিফ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার মগবাজার প্রধান সড়কে নির্মাণকাজ চলাকালে শানডং হাইস্পিড-সিনোহাইড্রো যৌথ উদ্যোগের কাজে নিয়োজিত একটি ভারী ক্রেনের নিচে চাপা পড়ে গুরুতর আহত হন প্রকৌশলী আরিফ। পাঁচ দিন সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৩ অক্টোবর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেছেন, দুর্ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়। তবে নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাবেষ্টনী, সতর্কতামূলক সংকেত, প্রশিক্ষিত ট্রাফিককর্মী এবং পথচারী ও যানবাহনের বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখতে হবে। ব্যস্ত সড়কে ভারী ক্রেন পরিচালনার আগে ঝুঁকি মূল্যায়ন ও জননিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানান তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুর্ঘটনার পর আরিফ রক্তাক্ত অবস্থায় আধা ঘণ্টারও বেশি সময় সড়কে পড়ে ছিলেন। তাকে উদ্ধারে যথাসময়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেছেন, নগরীতে নির্মাণকাজের ঝুঁকি শুধু শ্রমিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পথচারী, যাত্রী, যানবাহনের চালক, আশপাশের দোকানি ও বাসিন্দারাও এর ঝুঁকিতে থাকেন। তাই নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা, ঠিকাদার, প্রকল্প তদারককারী, নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্ব ও ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, দুর্ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও সময়সীমাবদ্ধ তদন্ত এবং তদন্তের অগ্রগতি ও প্রতিবেদন প্রকাশ; অবহেলা বা নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
এ ছাড়া চলমান নির্মাণ প্রকল্পগুলোয় জরুরি নিরাপত্তা নিরীক্ষা, ক্রেনসহ ভারী যন্ত্রপাতির ফিটনেস ও রক্ষণাবেক্ষণ যাচাই, অপারেটরদের প্রশিক্ষণ ও যোগ্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। নিরাপত্তার ঘাটতি থাকলে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ সাময়িক বন্ধ রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ব্যস্ত সড়কে নির্মাণকাজের আগে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, প্রশিক্ষিত ট্রাফিক মার্শাল, নিরাপদ পথচারী চলাচল এবং বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি নির্মাণস্থলে প্রাথমিক চিকিৎসা, প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মী ও দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নির্মাণস্থলে গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। নিয়মিত ও আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে নিরাপত্তার ঘাটতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিদর্শনের ফলাফল ও সংশোধনমূলক পদক্ষেপের তথ্য জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখারও দাবি জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, প্রকৌশলী আরিফের মৃত্যুকে বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, দায় নির্ধারণ, পরিবারের ন্যায়সংগত ক্ষতিপূরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে উপস্থাপন করা হবে বলেও জানান তারা।



