ছাত্রলীগ নেতাদের আটকে টাকা আদায়ের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে
- নেপথ্যে মোহাম্মদপুর থানার ওয়ার্ড বিএনপি নেতা রবিন
- পুলিশের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় আসামি ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ঢাকা উদ্যান এলাকায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের চার নেতাকে আটকে ১০ ঘণ্টা নির্যাতন করে ৪ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এক ওয়ার্ড বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। টাকা আদায়ের পরে আহত অবস্থায় তাদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
গতকাল বুধবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাদের নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে আহত অবস্থায় ওই চার নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানায় মোহাম্মাদপুর থানার ওসি আব্দুল হালিম।
গ্রেপ্তাররা হলেন জালাল উদ্দিন (৩২), নাঈম হাসান ডালিম (৩২), মাহমুদুল হাসান মামুন (৩৪) ও আল-আমিন (৩৫)। এর মধ্যে জালাল ভালুকা উপজেলার ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য। নাঈম হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সভাপতি ও মাহমুদুল একই ইউনিয়নের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। আল-আমিন হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সদস্য।
ওসি আব্দুল হালিম জানান, তিন ছাত্রলীগ ও একজন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকে ঢাকা উদ্যান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখতেন। ঢাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও আওয়ামী লীগের মিছিলের কার্যক্রম পরিচালনার উদ্দেশে তারা ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন বলে পুলিশ জানায়।
সংশ্লিষ্ট থানা সূত্র জানায়, মোহাম্মদপুর থানার ৩১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সাব্বির হোসেন রবিন ও তার অনুসারীরা ঢাকা উদ্যানের সি-ব্লক এলাকার একটি বাসা থেকে ওই ৪ জনকে আটকে অন্তত ১০ ঘণ্টা নির্যাতন করেন। প্রথমে তাদের কাছে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে বিএনপি নেতা রবিনের নির্দেশে ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা বিভিন্ন মাধ্যমে আদায় করে।
টাকা আদায়ের পরে বিএনপি নেতা রবিন মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক মফিজ উদ্দিনকে পুলিশ পাঠাতে বলে। তার নির্দেশে মোহাম্মদপুর থানার ডিউটিতে থাকা প্রথমে এসআই মাসুদ রানা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এর কিছুক্ষণ পরেই এসআই আমিরুজ্জামানও যান। সেখান থেকে আহত অবস্থায় চারজনকে থানায় নেওয়া হয়।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল হালিম আগামীর সময়কে বলেন, ‘বুধবার আমরা পূজার ডিউটি নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। রাতে এই ঘটনা জেনেছি। গ্রেপ্তার আসামিদের সঙ্গে যদি কোনো অন্যায় করা হয় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। চারজনকে গ্রেপ্তারের সময়ে একটি ল্যাপটপ ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। যদি কোনো মোবাইল কেউ সরিয়ে থাকে তা উদ্ধার করা হবে।’
মোহাম্মদপুর থানার একাধিক পুলিশ সদস্য জানিয়েছে, বিএনপি নেতা রবিন ৫ আগস্টের পরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের বহু নেতাকে আটক করে নির্যাতন ও টাকা আদায় করেছে। তার চাহিদামতো টাকা না পেলে থানা পুলিশ বা ডিবি পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। তার এই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আটক ও নির্যাতনের ঘটনায় একাধিকবার সমালোচনা হয়েছে।
জানা যায়, সম্প্রতি আসাদগেট এভিনিউ এলাকার সেন্ট খ্রিস্টিনা গির্জার ঘণ্টা চুরির ঘটনায় এই রবিন জড়িত ছিলেন। চুরির পরে বিষয়টি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপে রবিনই ঘণ্টা উদ্ধারের নামে ফিরিয়ে দেন। তদন্তে বিভিন্ন প্রমাণ থাকার পরেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিএনপি নেতা রবিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। একপর্যায়ে মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আটকে নির্যাতন করে টাকা ও পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ঘটনার বিষয়ে তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। পরে জেনেছি। আটকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়াও এ ঘটনায় মোহাম্মদপুর থানার কোনো কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যায় করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।



