‘মানুষ বিক্রির জন্য নয়’

ছবি: আগামীর সময়
‘মানুষ বিক্রির জন্য নয়’। ছোট্ট বাক্য। কিন্তু ভীষণ অর্থবহ। ছোট্ট এই বাক্য দিয়ে মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান সম্পর্কিত বিষয়ে রচনা লিখেছেন নারায়ণগঞ্জের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান।
একটি স্বপ্নের খোঁজে ঘর ছাড়লেও অনেকের শেষ ঠিকানা হয় নির্যাতন, বন্দিদশা কিংবা মৃত্যু। মানব পাচারের এমন নির্মম বাস্তবতা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করতে জাতীয় রচনা লেখার আয়োজন করা হয়। এতে নুসরাতের মতো সারা দেশ থেকে অংশ নেয় ৮৭০ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৩৭ জন পুরস্কার ও সনদ পেয়েছেন। এদের মধ্যে ৩১ জন রচনায় চূড়ান্ত হয়েছেন। আর দুই ক্যাটাগরিতে সেরা হয়েছেন ৬ জন।
অস্ট্রেলিয়া সরকার ও ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যোগে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাহিত্য গবেষক ও প্রাবন্ধিক অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক ও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম।
প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন লেখক, গবেষক ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আফসান চৌধুরী, সাংবাদিক রাজীব নূর এবং কথাসাহিত্যিক কিযী তাহনিন।
‘অষ্টম শ্রেণি থেকে কলেজ পর্যায়’ এবং ‘বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়’- এই দুটি বিভাগে প্রতিযোগিতার মূল্যায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে জ্যেষ্ঠ ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিলয় বিশ্বাস। রানার আপ হয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফাহাদ হোসেন ফাহিম।
জুনিয়র ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কক্সবাজার জেলার খুরুশকুল হাই স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম তাকওয়া। যৌথভাবে প্রথম রানার আপ হয়েছেন টেকনাফের শহীদ আজিজুল হক বালিকা মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাদিয়া সালমা এবং টেকনাফের সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আরাফাত শাহীন কমল। তৃতীয় হন গাজীপুরের পিরুজালী আদর্শ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সেজুতি আক্তার আয়েশা।পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ আজিজুল হক বলেছেন, যারা পাচারের শিকার হচ্ছেন এবং দুর্বিষহ জীবনের মুখোমুখি হচ্ছেন, এটা শুধু তাদের বিষয় নয়, গোটা জাতির বিষয়। পাচার প্রতিরোধের দায়িত্ব সবার।
রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের মাধ্যমে এই বার্তাগুলো সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। এটি ভালো উদ্যোগ।
অনুষ্ঠানের জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক ও কথাসাহিত্যিক আফসানা বেগম নিজের মালয়েশিয়া প্রবাসজীবনের কথা উল্লেখ করেন বললেন, সচেতনতার মাধ্যমে অনেক মানুষকে বিপদ থেকে রক্ষা করা যায়।
মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ করে মানুষের মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ অভিবাসনের অধিকার নিশ্চিত করতে ব্র্যাক কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন বেসরকারি সংস্থাটির শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মাইগ্রেশন কর্মসূচির পরিচালক সাফি রহমান খান।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান বলেছেন, অভিবাসীদের শ্রমের ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি চলে। কিন্তু পাঠ্য বইয়ে তাদের জীবনের কোনো কথাই উঠে আসে না। শিক্ষার্থীদের জানাতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।






