নিজ বাসাতেই নিখোঁজ শিশু ইব্রাহিম, ২৮ দিনেও মেলেনি সন্ধান

শিশু ইব্রাহিম
রাজধানীর মিরপুর পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে নিখোঁজ হয়েছে পাঁচ বছরের শিশু ইব্রাহিম।
ওই বাসার সামনের গলির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গত ১৩ মে ঠিক সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে একটি গোলাপি রঙের বাসা থেকে শিশু ইব্রাহিম বের হয়ে ঢোকে নিজের বাসায়। তার পেছন পেছন ঢুকতে দেখা যায় ওই বাসার মালিক ওমর শরিফকেও। এর ১০ মিনিট পর, ঠিক ৭টা ৫১ মিনিটে বাড়িওয়ালা ওমর শরিফ বাসা থেকে বের হয়ে যান। তার ঠিক ২২ সেকেন্ড পর, ৭টা ৫১ মিনিট ২২ সেকেন্ডে শুনতে পাওয়া যায় একটি শিশুর ‘আব্বা’ বলে চিৎকার। তীব্র সে চিৎকারের সঙ্গে কান্নাস্বরে অস্পষ্ট কিছু বলতে শোনা যায় শিশুটিকে। শিশু ইব্রাহিমের বাবা-মার দাবি, চিৎকারটি ইব্রাহিমের। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না শিশু ইব্রাহিমকে।
বন্ধুর বাসা থেকে নিজের বাসায় ঢোকার পরই নিখোঁজ
শিশু ইব্রাহিমের বাবা, ফুচকা বিক্রেতা মো. জসিম বলেছেন, পাশের বাসায় বন্ধুর সঙ্গে খেলা শেষে ইব্রাহিম নিজের বাসার গেটের ভেতরে ঢোকে। সে সময় ইব্রাহিমের পেছন পেছন গেটের ভেতরে ঢোকেন বাসার মালিক মো. ওমর শরিফ। আনুমানিক রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার দিকে ইব্রাহিমকে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। তখন গেটের সামনে সিঁড়ির মোড়ে তার জুতা জোড়া পড়ে থাকতে দেখি। মনে করেছি, জুতা যেহেতু আছে, ছেলে হয়তো আশপাশে বা বাসার ওপরতলায় আছে। এরপর ডাকাডাকি করে বাসার কোথাও খুঁজে না পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। তারপর সারারাত বাসার আশপাশের সব জায়গায় খুঁজেও ইব্রাহিমকে পাইনি।
পরে সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে দেখি, সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে গেটের ভেতরে ঢোকার পর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বাসা থেকে আর সে বের হয়নি।
অভিযোগের তীর বাড়িওয়ালার প্রতি
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা ইব্রাহিমের পেছন পেছন ঢোকা বাড়িওয়ালা মো. ওমর শরিফকে শিশু ইব্রাহিমের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি আগামীর সময়কে বলেন, ‘যখন আমি বাসার ভেতর ঢুকি, তখন ইব্রাহিমও আমার সামনে ঢোকে। সে ঢুকেই বাথরুমের দিকে যায়, আর আমি ওপরে উঠে যাই। আমার বাচ্চার ওষুধ কেনার জন্য বাসা থেকে টাকা নিয়ে কিছুক্ষণ পরই বের হয়ে যাই। বের হয়ে যাওয়ার সময় আর ইব্রাহিমকে দেখতে পাইনি।’
তবে পরিবারের দাবি, ইব্রাহিমকে খুঁজে না পেয়ে মো. ওমর শরিফকে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাদের বলেছিলেন, ইব্রাহিমকে সিঁড়িতে বসে থাকতে দেখেছেন। তবে এখন বলছেন, বাথরুমে যেতে দেখেছেন। বাড়িওয়ালা মো. ওমর শরিফের কথায় গড়মিল আছে বলে অভিযোগ তুলেছে শিশুটির পরিবার।
এ ছাড়া পরিবারের অভিযোগ, বাড়িওয়ালার তিন ভাইয়ের মধ্যে দুই ভাই দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। টাকার জন্য তাদের সন্তানকে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে।
ইব্রাহিমের মা নাসরিন আক্তার নাজমিন একটি ঘটনা উল্লেখ করে বলেছেন, ‘ইব্রাহিম নিখোঁজের তিন দিন পর সিসিটিভি ফুটেজ চেক করার জন্য ওপরতলায় বাড়িওয়ালার বাসায় যায় তার ভগ্নিপতি। তবে ভুল করে অন্য রুমে ঢুকে পড়ে। তখন শিথিল নামের বাড়িওয়ালার আরেক ভাই পিস্তলের বাট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। পরে তার মাথায় ছয়টি সেলাই লাগে।’
অপহরণ মামলা
ঘটনার পরদিন, ১৪ মে পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে শিশু ইব্রাহিমের পরিবার। পরে ২ জুন অপহরণ মামলা করে এবং মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের আবেদন জানায় পরিবার। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনাটি ভাইরাল না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে যথাযথ সহযোগিতা পাচ্ছে না তারা।
এ বিষয়ে পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান বাসিরের সঙ্গে যোগাযোগ করে আগামীর সময়। মামলা ও তদন্তের বিষয়ে তিনি বললেন, ‘১৪ তারিখ পরিবারের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে অপহরণ মামলা নেওয়া হয়েছে।’
‘ঘটনাটি খুবই জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কেউ মুক্তিপণ দাবি করলে বুঝতে পারতাম অপহরণ হয়েছে, অথবা মরদেহ উদ্ধার হলে সে অনুযায়ী মামলাটি এগোতে পারতাম। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ ও সরেজমিনে তদন্ত চলমান রয়েছে। তা ছাড়া মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের জন্য আবেদন করেছি।’ যোগ করেন তিনি।




