ক্যাব
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে বাড়ছে জনদুর্ভোগ

ছবি: আগামীর সময়
বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অপ্রাপ্ততা, জ্বালানি সংকটে মিল-কারখানা বন্ধ, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাতিলের কারণে দেশে জনদুর্ভোগ বাড়ছে বলে জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। এসব সমস্যার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্যাবের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা তুলে ধরা হয়।
সভায় ক্যাবের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর ভূঁইয়া বলেন, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট ও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাতিলের কারণে ভোক্তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
ক্যাব সরকারের প্রতিপক্ষ নয়, বরং জনস্বার্থে সরকারের পাশে থেকে অ্যাডভোকেসির ভূমিকা পালন করছে। দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে ভোক্তাদের দুর্ভোগ কমাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
দেশের চলমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি। বললেন, এরই মধ্যে ৪০০ মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। জ্বালানি সংকটে একদিকে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে বেকারত্বের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। গ্যাস ও তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি এবং সিস্টেম লসের কারণে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ছে। এসব অনিয়ম দ্রুত বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।
আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় শিল্প ও জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আত্মনির্ভরতার পথে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ওষুধ খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাতিলের কারণ জনগণকে জানাতে হবে। পাশাপাশি ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। খাদ্য ও ওষুধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জনবান্ধব নীতি গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
ক্যাবের কোষাধ্যক্ষ শওকত আলী খান বলেন, ভেজাল বর্তমানে মহামারী আকার ধারণ করেছে। ওষুধ খাতে নানা সমস্যার মধ্যে হঠাৎ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা বাতিল করায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। অবিলম্বে তালিকাটি পুনর্বহাল করে যৌক্তিক মূল্যে ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত ও ভেজাল ওষুধ এবং খাদ্যপণ্য বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স। তিনি দেশের নিজস্ব গ্যাস উত্তোলন বাড়িয়ে এলএনজিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
তার ভাষ্য, গ্যাস-বিদ্যুৎ খাতে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরবরাহ ও মূল্য নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমেদ জ্বালানি সংকট সমাধানে সুনির্দিষ্ট পথরেখা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি দেশীয় গ্যাস উত্তোলন ও জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের তাগিদ দেন।
ক্যাবের নির্বাহী পরিচালক আহম্মদ একরামুল্লাহর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যাবের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং নির্বাহী কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন।







