শিশুদের পাশে ‘কিডস ক্লাব’
- আগামীর সময়ের সঙ্গী সিটিজেনস ব্যাংক

চুক্তিস্বাক্ষরের পর শিশুদের সঙ্গে সিটিজেনস ব্যাংক ও আগামীর সময়ের কর্তকর্তাবৃন্দ। ছবি: আগামীর সময়
সাধারণত করপোরেট প্রতিষ্ঠানের চুক্তি সই অনুষ্ঠানে যে আবহ থাকে, তেমনটি ছিল না। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে প্রবেশ করেই শোনা গেল শিশুদের কণ্ঠে কবিতা আবৃত্তি। কেউ আবৃত্তি করছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘লিচু চোর’ কবিতা, কারও কণ্ঠে শোনা গেল ‘তালগাছ’ কবিতাটি। ছিল দলীয় আবৃত্তি আর গানের পরিবেশনাও।
এমন দৃশ্য দেখা গেল দৈনিক আগামীর সময় ও সিটিজেনস ব্যাংকের মধ্যকার একটি চুক্তি সই অনুষ্ঠানে। শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা ও প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে দৈনিক আগামীর সময়ের ‘কিডস ক্লাব’ কার্যক্রমে এবার সঙ্গী হয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসি। এ লক্ষ্যে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্পনসরশিপ চুক্তি সই হয়েছে। গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলা মোটরে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ৪০১ নম্বর কক্ষে এ চুক্তি সই অনুষ্ঠান হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই ছিল রূপশ্রী চক্রবর্তীর পরিচালনায় শিল্পবাংলার শিশুদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। পরে শুরু হয় চুক্তি সই অনুষ্ঠান। কিডস ক্লাবের পরিচালক সাইদুজ্জামান রওশন (দন্ত্যস রওশন) এবং সিটিজেনস ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল লতিফ চুক্তিতে সই করেন।
স্বাগত বক্তব্যে কিডস ক্লাবের পরিচালক দন্ত্যস রওশন ক্লাবের উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম তুলে ধরে বক্তব্য দেন। তিনি বললেন, “শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে একটি আনন্দময় ও ইতিবাচক প্ল্যাটফর্ম তৈরির লক্ষ্যে ‘কিডস ক্লাব’ কার্যক্রম শুরু করেছে। এ উদ্যোগে সিটিজেনস ব্যাংকের সহযোগিতা শিশুদের জন্য বিভিন্ন সৃজনশীল আয়োজনকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ তৈরি করবে।”
কিডস ক্লাব পরিচালক জানালেন, চুক্তির আওতায় আগামী ছয় মাসে, প্রতি মাসে একটি করে মোট ছয়টি অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি আয়োজনে শিশু, অভিভাবক, শিক্ষক, অতিথি ও আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা অংশ নেবেন। অনুষ্ঠানগুলোতে সিটিজেনস ব্যাংকের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা উপস্থিত থেকে শিশুদের উৎসাহিত করবেন এবং এ সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন। ‘কিডস ক্লাব’-এর আয়োজনে শিশুদের গান, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি চিত্রাঙ্কন ও বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রম থাকবে। শিশুদের প্রতিভা উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি শিশুস্বাস্থ্য ও ইতিবাচক অভিভাবকত্ব বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং শিশুদের জন্য আনন্দঘন ও অংশগ্রহণমূলক বিভিন্ন আয়োজনও থাকবে।
সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমগীর হোসেন বললেন, ‘এই অনুষ্ঠানে এসে শিশুদের আবৃত্তি শুনে আমার ছোটবেলার স্মৃতি মনে পড়েছে। আমাদের স্কুলেও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা হতো।’
দৈনিক আগামীর সময় প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘ছাপা কাগজের দিন ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে চারদিকে যখন নানা আলোচনা হচ্ছে, তখন আগামীর সময় বাজারে এসেছে জেনে আমি প্রথমে কিছুটা অবাক হয়েছিলাম। এই অনুষ্ঠানে এসে বুঝতে পারছি, আগামীর সময় ভিন্ন চিন্তা নিয়েই এসেছে। শিশুদের নিয়ে তাদের যে পরিকল্পনা, তা দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। তারা যে কাজটি করছে, এটি সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। সিটিজেনস ব্যাংকও সমাজের মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে এই আয়োজনে যুক্ত হয়েছে। এটি যদি ইতিবাচক সাড়া ফেলে তবে আমরা এই চুক্তির মেয়াদ বাড়াতেও পারি।’
ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বললেন, ‘উন্নত দেশে আমরা দেখি শিশুদের বিকাশের জন্য নানা রকম উদ্যোগ থাকে। বাংলাদেশেও শিশুদের নিয়ে কিছু করার দায়িত্ব আমাদের সবার। সে জায়গা থেকেই আগামীর সময়ের এ মহৎ কাজে যুক্ত হওয়া।’
উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল লতিফ বললেন, ‘সমাজে সচেতনতা বাড়াতে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব অনেক বেশি। ব্যাংকেরও দায়িত্ব আছে। সে দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা শিশুদের জন্য কিছু করার তাগিদ অনুভব করছি। সেই অনুভব থেকে এ উদ্যোগটিকে মহৎ কাজ বলে মনে করি। আমরা বাচ্চাদের নিয়ে নানা কারণে অনেক বেশি শঙ্কিত থাকি। শিশুদের জন্য আমাদের সবার দায়িত্ব আছে।’
আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন বললেন, ‘শিশু মানেই সম্ভাবনা। শিশুর সুস্থ বিকাশ হলেই সামগ্রিকভাবে সমাজ সুস্থ থাকবে। শিশুদের বাদ দিয়ে কোনো সভ্যতা বা দেশ এগোতে পারে না। আমরা যদি দেশটাকে এগিয়ে নিতে চাই, তবে শিশুরাই এগিয়ে নেবে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো জীবনকে আনন্দময় করে তোলা। জয়-পরাজয় যা-ই থাক, কাজের মধ্যে আনন্দ থাকাটা সবচেয়ে জরুরি। শিশুদের সঙ্গে নিয়ে আমরা যে আনন্দযাত্রা শুরু করেছি, তা যেন দীর্ঘ হয় এবং এ পথচলায় সবাইকে আমরা পাশে চাই।’
অনুষ্ঠানে সিটিজেনস ব্যাংকের হেড অব কারওয়ান বাজার ব্রাঞ্চ মো. জাহিদ আলমগীর এবং আগামীর সময়ের সেলস, মার্কেটিং অ্যান্ড অপারেশন্সের ডিরেক্টর আহসানুজ্জামান রিমন, ক্রিয়েটিভ, রিসার্চ অ্যান্ড ইভেন্টসের ডেপুটি হেড নাজির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।









