৫৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই
আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের আরও ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ওয়ারী থানা পুলিশ। ছবি : আগামীর সময়
রাজধানীর পুরান ঢাকায় স্বর্ণ ব্যাবসায়ীর ৫৭ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাইয়ের ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের আরও ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ওয়ারী থানা পুলিশ। আজ রবিবার ভোররাতে কিশোরগঞ্জ জেলায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রুবেল (৩৮), মো. মোবারক হোসেন ওরফে শাওন (৩০) ও আব্দুল্লাহ আল হাসান ওরফে সাকিব ওরফে অজয় (২৮)। এ নিয়ে এই চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন।
নাসিরুদ্দিন জানিয়েছেন, এর আগে এ ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে অভিযান চালিয়ে রুবেল, মোবারক ও সাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
ওয়ারী থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মে বুধবার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে নবাবপুর রোডের রথখোলা মোড়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী হরিপদ পাল ও তার প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ৫৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা নিয়ে বাসায় ফেরার পথে সংঘবদ্ধ একটি চক্র তাদের গতিরোধ করে। পরে ডিবি পুলিশের পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছে অবৈধ মাদকদ্রব্য রয়েছে বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়।
পরে চোখ-মুখ বেঁধে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনসংলগ্ন এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হরিপদ পালের অভিযোগের ভিত্তিতে ওয়ারী থানায় একটি মামলা করা হয়।
মামলাটির তদন্তকালে ওয়ারী থানা পুলিশের একটি টিম সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ৬ জুন রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ইত্তেফাক মোড় এলাকায় আবার ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চক্রটির ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ডিবি পুলিশের কটি, খেলনা পিস্তল, ওয়াকি-টকি সেট, হ্যান্ডকাফ, লাঠি ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যশোর ও তাতীবাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে স্বর্ণ ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত আরও ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে ছিনতাই করা ৫৭ ভরি স্বর্ণের মধ্যে ১৭ ভরি গলানো স্বর্ণ, স্বর্ণ বিক্রির ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় রবিবার ভোররাতে পুলিশের একটি টিম কিশোরগঞ্জ থেকে রুবেল, মোবারক ও সাকিবকে গ্রেপ্তার করে।


