যুক্তরাজ্যে নাসা গ্রুপের নজরুল ইসলামের সম্পদ জব্দ

নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। সংগৃহীত ছবি
নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার স্ত্রী নাসরিন ইসলামসহ তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিপুল সম্পদ জব্ধ করেছে ব্রিটিশ ক্রাউন-নির্ভর স্বশাসিত অঞ্চল আইল অব ম্যানের কর্তৃপক্ষ। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাঠানো পারস্পরিক আইনগত সহায়তা অনুরোধের (এমএলএআর) পর তাদের সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, নাসরিন ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ওয়ান প্রপার্টি লিমিটেডের বিষয়ে আইল অব ম্যানের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে সেখানকার কর্তৃপক্ষ অভিযোগসংশ্লিষ্ট সম্পত্তি জব্দ করেছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো অনুরোধের সব কার্যক্রমও সম্পন্ন করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। নজরুল ইসলাম মজুমদার, নাসরিন ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি ওয়ান প্রপার্টি লিমিটেডের বিষয়ে আইল অব ম্যানের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছিল।
যুক্তরাজ্যের কোম্পানি নিবন্ধন দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ান প্রপার্টি লিমিটেডের নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি হিসেবে নজরুল ইসলাম মজুমদার ও নাসরিন ইসলামের নাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ২৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ও ভোটাধিকার দুজনেরই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে করে বিদেশে নিবন্ধিত একটি সম্পত্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নাসা গ্রুপের শীর্ষ ব্যক্তিদের সরাসরি যোগসূত্রের তথ্য সামনে এসেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে– ওয়ান প্রপার্টি লিমিটেডের নামে কী ধরনের সম্পদ রয়েছে, সেগুলো কীভাবে কেনা হয়েছে এবং এসব সম্পদ কেনার অর্থের উৎস কী।
নজরুল ইসলাম মজুমদারের বিদেশি সম্পদ নিয়ে এর আগেও বিভিন্ন অনুসন্ধানে তথ্য এসেছে। বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের তথ্যের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তার লন্ডনের পাঁচটি সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭৯ লাখ পাউন্ড এবং আইল অব ম্যানের দুটি সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৫২ লাখ ৮০ হাজার পাউন্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
দুদক বলছে, আইল অব ম্যান থেকে পাওয়া তথ্য এখন চলমান অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেখানে কোম্পানির মালিকানা, সম্পত্তির দলিল, ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেলে বিদেশে নাসা গ্রুপের সম্পদের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।
দুদক খতিয়ে অনুসন্ধান করছে, ওয়ান প্রপার্টি লিমিটেডের মাধ্যমে কোনো অর্থ বাংলাদেশ থেকে বিদেশে নেওয়া হয়েছিল কি না, সম্পত্তি কেনার অর্থের উৎস কী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না।






