প্রথম পাঁচ বছরে শিশুর পরিচর্যা নিশ্চিতের তাগিদ
- প্রথম ১০০০ দিনে গঠন হয় মস্তিস্কের ৮০ শতাংশ
- খেলাধুলায় নিশ্চিত হয় শিশুর মানসিক বিকাশ

ফাইল ছবি
একটি শিশুর মস্তিষ্কের প্রায় ৮০ শতাংশ বিকাশ ঘটে গর্ভকাল থেকে জন্মের পর প্রথম এক হাজার দিনের (০-২ বছর) মধ্যে। তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সের মধ্যে এই বিকাশ পৌঁছে যায় প্রায় ৯০ শতাংশে। তাই গর্ভকাল থেকেই শিশুর প্রথম পাঁচ বছর পর্যন্ত যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক আয়োজিত ‘সাসটেইনিং প্লে, লার্নিং অ্যান্ড স্কিলস ইন হিউম্যানিটারিয়ান কনটেক্সটস (স্প্ল্যাশ)’ উদ্যোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য দেন বক্তারা।
আজ সোমবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শিশুদের পাশাপাশি গর্ভকালীন সময়ে ও সন্তান জন্মের পর মায়ের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। অন্তত ১০ শতাংশ অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং প্রায় ১৫ শতাংশ নতুন মা প্রসবোত্তর বিষণ্নতায় (পোস্টপারটাম ডিপ্রেশন) আক্রান্ত হন। এ সময় মায়েদের যত্নে পরিবারের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ব্র্যাকের স্বাস্থ্য কর্মসূচি ও মানবিক সংকট ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির ঊর্ধ্বতন পরিচালক মো. আকরামুল ইসলাম বলেছেন, শিশুদের শিক্ষা, মানসিক সুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি বিকাশ নিশ্চিত করতে ছোটবেলা থেকেই এসব খাতে বিনিয়োগের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। এর ফলে বাস্তুচ্যুতিসহ নানা সংকটের মধ্যে থেকেও শিশুরা শিখতে পারবে এবং নিজেদের সম্ভাবনাগুলো বিকশিত করার সুযোগ পাবে।
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্টের (বিআইইডি) নির্বাহী পরিচালক ইরাম মরিয়ম বলছিলেন, শিশুদের প্রয়োজন বোঝেন, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন— এমন শিক্ষক ও সহায়ক কর্মী প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন। ব্র্যাক এরই মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
শিশুর টিকা কোনটা কখন
১৩ জুলাই ২০২৬
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে নিজের ছোটবেলার নানা অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেছেন, ‘দেশের এক-চতুর্থাংশ জনগোষ্ঠী হচ্ছে শিশু। তারাই ভবিষ্যতে দেশের নেতৃত্ব দেবে। শিশুদের সুষ্ঠু বিকাশে ইতিবাচক পরিবেশ অত্যন্ত জরুরি।’ শিশুদের বারবার ‘না’ বলার অভ্যাস ত্যাগ করে ‘হ্যাঁ’ বলার পরামর্শ দেন তিনি।
উদ্বোধনী অধিবেশনে বক্তব্যে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ বলেছেন, আগে সামাজিক কিছু নিয়ম-কানুন ছিল। যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হতো, সেগুলো শেষ হয়ে গেছে। উল্টো একধরনের গোষ্ঠীবাদের উত্থান হয়েছে, যা শিশুদের ভবিষ্যৎকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে ‘স্প্ল্যাশ’ কর্মসূচির প্রথম ধাপ। এতে মানবিক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য ব্র্যাক-লেগো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ও উগান্ডার চার লাখ শিশু পাবে খেলাভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ। পাশাপাশি জন্ম থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের বয়সভিত্তিক বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হবে।
ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের আর্লি চাইল্ডহুড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এডুকেশন (গ্লোবাল) কর্মসূচির প্রধান রাফিয়াত রশীদ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। আরও বক্তব্য দেন এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ জকরিয়া, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।







