পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
সাংবাদিকের অবস্থান ঢাকায়, চাঁদাবাজি মামলা আত্রাইয়ে!

ছবি: আগামীর সময়
দৈনিক ইনকিলাবের নওগাঁর আত্রাই উপজেলা প্রতিনিধি সিফাত মাহমুদ ফাহিমের বিরুদ্ধে দায়ের করা ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির মামলার নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছে তার পরিবার। একই সঙ্গে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে অসংগতি ও মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তার ভূমিকা পর্যালোচনা এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
আজ রবিবার দুপুর ১২টায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন দাবি জানায় পরিবার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক ফাহিমের বাবা ওসমান আলী প্রামানিক, মা শেফালী বেগম, ভাই ফিরোজ প্রামানিক ও খালাতো ভাই নাজমুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের অভিযোগ, আত্রাই উপজেলার ২ নম্বর ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নাজিম উদ্দিন মণ্ডল ফাহিমের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। গত ৩ জুন আত্রাইয়ের ৮ নম্বর আমলকী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ফাহিমের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৮৫ ও ৫০০ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ।
পরিবারের দাবি, গত ২৬ এপ্রিল ফাহিম ঢাকার সাভারে তার ভাড়া বাসায় অবস্থান করছিলেন। অথচ তদন্ত প্রতিবেদনে তাকে ভোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উপস্থিত দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ১৪ অক্টোবর নওগাঁর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন ফাহিম। তবে বিচারক নজরুল ইসলাম তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার তৎকালীন তদন্ত কর্মকর্তা আত্রাই থানার সাব-ইন্সপেক্টর সেলিমুজ্জামানের বিরুদ্ধে তদন্তে অনিয়ম ও আদালতে অসত্য তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ তোলা হয়।
পরিবারের দাবি, তদন্ত প্রতিবেদনে গ্রাম পুলিশ আনোয়ার হোসেনের নাম উল্লেখ করা হলেও তার দাবি, এ বিষয়ে তদন্ত করতে কেউ তার কাছে যাননি। এ-সংক্রান্ত একটি বক্তব্যের রেকর্ডিং পরিবারের কাছে রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। এ ছাড়া দুই সাক্ষী মো. সবুজ হোসেন ও মো. শহিদুল ইসলাম হলফনামার মাধ্যমে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তারা কিছু জানেন না বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। আরেক সাক্ষী মো. আল আমিন খাঁ দেশের বাইরে রয়েছেন বলে জানানো হয়।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাহিমের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়েরের আগে চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন মণ্ডলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। গত ১ সেপ্টেম্বর ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি মালামাল বাড়িতে নেওয়ার সময় চেয়ারম্যান স্থানীয় লোকজনের হাতে ধরা পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। দৈনিক ইনকিলাবেও ‘আত্রাইয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ সরানোর অভিযোগ, ডিসিকে ইউএনওর চিঠি’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
পরে গত ১২ সেপ্টেম্বর ধর্ষণ মামলায় চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার হলে এ নিয়েও দৈনিক ইনকিলাবসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ইনকিলাবে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল ‘ধর্ষণ মামলায় আ.লীগ নেতা ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার’। পরিবারের অভিযোগ, এসব সংবাদ প্রকাশের জেরে ফাহিমের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তা কী কী প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন, সাক্ষীদের বক্তব্য কীভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন, ঘটনার সময় ও স্থান কীভাবে যাচাই করেছেন এবং ফাহিমের পক্ষে প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনায় নিয়েছেন কি না—এসব বিষয় তদন্তের মূল নথি ও কেস ডায়েরি পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহল ও সাংবাদিকদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ফাহিমকে মামলায় জড়ানো হয়ে থাকতে পারে। তাদের মতে, এ অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটির পুনঃতদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি তদন্তে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া, জেনেশুনে মিথ্যা অভিযোগ করার প্রমাণ পাওয়া গেলে বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ফাহিমের ন্যায়বিচার ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।





