হাসিনার পথেই হাঁটতে ভালোবাসে জামায়াত : রিজভী

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আফসার আহমদ সিদ্দিকী স্মৃতি ফাউন্ডেশন
জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেখানো পথেই হাঁটতে ভালোবাসে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ক্ষমতার প্রয়োজনে জামায়াত কখনো কখনো বিএনপির সঙ্গে জোট করার চেষ্টা করলেও তাদের মানসিকতা হাসিনার মতোই।
আজ রবিবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আফসার আহমদ সিদ্দিকীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন রিজভী। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে আফসার আহমদ সিদ্দিকী স্মৃতি ফাউন্ডেশন।
জামায়াত আমিরের বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘জামায়াত আমির আজকেই বোধ হয় একটা কথা বলেছেন, বিএনপি ফ্যাসিস্টদের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। আমি তাকে বলতে চাই, ফ্যাসিস্টদের পথ কী? কোনটা পথ? একটা দৃষ্টান্ত দেখান।’
‘চব্বিশের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সবকিছু মাফ করে দেওয়া কিংবা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বিএনপির কোনো নেতা বলেননি। বিএনপির প্রধান নেতা তারেক রহমানও এমন কথা বলেননি। অথচ এখন বিএনপির বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্টদের পথে হাঁটার অভিযোগ তোলা হচ্ছে’, যোগ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘জনগণ বিএনপিকে চেনে। বিএনপি যে প্রতিশ্রুতি দেয়, তা থেকে বিচ্যুত হয় না। কিন্তু আপনারা (জামায়াত) যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন— সেই প্রতিশ্রুতি ইসলামের নামে দিয়েছেন, আল্লাহর নামে দিয়েছেন। অনেক কথা বলেছেন মানুষের মন জয় করার জন্য। কিন্তু পরক্ষণেই উল্টো কাজ করেছেন। অতীতের যত কাজ, সে কাজগুলো কিন্তু আপনারা করেছেন— হাসিনার যে পথ, সে পথ ধরেই।’
১৯৮৬ সালের তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘এরশাদ সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে খালেদা জিয়া তার অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতও এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু পরে আওয়ামী লীগ সে অবস্থান থেকে সরে আসে এবং জামায়াতও তাদের সেই অবস্থান থেকে সরে যায়। আপনারা (জামায়াত) তো প্রমাণ রেখেছেন ইতিহাসে।’
১৯৯৪-৯৫ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার দাবিতে আন্দোলনেও আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াত একই পথে হেঁটেছিল বলে অভিযোগ করেন রিজভী। তিনি বলেন, ‘অসংখ্য নেতাকর্মীর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বিএনপি গড়ে উঠেছে। গণতন্ত্রই দলটির অভীষ্ট লক্ষ্য ও আদর্শিক চেতনা।’
জামায়াতের উদ্দেশে রিজভী বলেন, গণতন্ত্র ও দেশের স্বাধীনতার প্রশ্নে দলটির আদর্শিক অবস্থান নিয়ে জনগণের মধ্যে সন্দেহ রয়েছে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনগুলোয় জামায়াতের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
প্রয়াত আফসার আহমদ সিদ্দিকীকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘তাকে বড় ভাই ডাকলেও সম্পর্কটা ছিল পিতা-পুত্রের মতো।’ তার সান্নিধ্যে থেকে রাজনীতি বোঝার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও অনেক কিছু শিখেছেন বলে জানান।
বিএনপির নার্সেস ও স্বাস্থ্য সহকারীবিষয়ক সহ-সম্পাদক জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দলটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম, অর্থনৈতিকবিষয়ক সহ-সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতি ডা. জাহেদুর রহমান জাহিদসহ অন্যরা।




