বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় পাশে থাকার অঙ্গীকার জাইকা প্রেসিডেন্টের

জাইকা প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো- সংগৃহীত
পাঁচ দিনের ফলপ্রসূ বাংলাদেশ সফর শেষে স্বদেশে ফিরে গেছেন জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকো। এই সফরে তিনি বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারত্ব দৃঢ় করার পাশাপাশি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে জাইকার দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
সফর শেষে তিনি বললেন, বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের অংশীদারত্ব অত্যন্ত শক্তিশালী এবং আগামী বছরগুলোতেও জাইকা বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় পাশে থাকতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
সফরকালে ড. তানাকা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও চলমান উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি জাপানের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ঢাকা মেট্রোরেল, শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
এ ছাড়া ‘পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশকে দেওয়া ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন জরুরি সহায়তার বিষয়েও আলোচনা হয়। জাইকা প্রেসিডেন্ট অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ, পররাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার, বিদ্যুৎ এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সঙ্গেও পৃথক বৈঠক করেন।
এর আগে সফরের শুরুতে ড. তানাকা ২০১৬ সালের হোলি আর্টিজান হামলায় নিহত সাত জাপানি নাগরিকের স্মরণে আয়োজিত দশম বার্ষিক স্মরণসভায় অংশ নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ৪ জুলাই তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে জাইকার অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন মানবিক ও কারিগরি কার্যক্রম পরিদর্শন করেন এবং শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
একই দিনে তিনি কক্সবাজার ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার ও মৎস্যজীবীদের জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্প এবং সফরের শেষ দিনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জাপানি প্রযুক্তিনির্ভর ‘জে-ড্রাম’ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এই সফরের মাধ্যমে দেশের অবকাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে জাইকার সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




