গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে যা বলছে ইসি

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াত। সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাকে বহিষ্কার করে দলটি।
একই সঙ্গে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে অবহিত করবে বলে জানিয়েছে জামায়াত।
এখন প্রশ্ন উঠেছে, গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদের কী হবে?
যা বলছে ইসি
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন সংবিধান, আইন ও আরপিও অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।’
তিনি জানালেন, সংবিধানে এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে কিছু বলা নেই। সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদেও সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই। তবে নজির হিসেবে গোলাম মাওলা রনি, লতিফ সিদ্দিকী এবং ডা. মুরাদ হাসানের বিষয়গুলো দেখা যেতে পেরে।
সংবিধান ধারায় কী আছে?
সাধারণত কোনো সংসদ সদস্য অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কী থাকবে না, এমন প্রশ্ন সামনে চলে আসে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকের উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘কোনো ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়া, নৈতিক বিতর্ক তৈরি হওয়া, সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা বা অভিযোগ ওঠার কারণে সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার কোনো বিধান নেই। সংবিধানে এমন কোনো অনুচ্ছেদ নেই, যেখানে শুধু অভিযোগ বা নৈতিক সমালোচনার ভিত্তিতে সরাসরি সদস্যপদ বিলুপ্তি হবে।’
তবে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ তখনই শূন্য হয়, যদি কোনো সদস্য যে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত হয়েছেন, সেই দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দেন।
ব্যারিস্টার মোস্তফা শাকের উল্লাহ বলছিলেন, ‘দলীয় বহিষ্কার বা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে ৭০ অনুচ্ছেদের অধীনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার সুযোগ নেই।’
তবে ফৌজদারি মামলায় তিনি যদি এমনভাবে দণ্ডিত হন, যাতে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও প্রাসঙ্গিক আইনের অধীনে তিনি সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন, তখন বিষয়টি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে। আসন শূন্য হওয়ার প্রশ্ন দেখা দিলে সংবিধানের ৬৭(২) অনুযায়ী বিষয়টি রাষ্ট্রপতির নিকট যাবে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনের মতামত গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত দেবেন।’
এ ক্ষেত্রে গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ আইনগত ও সাংবিধানিকভাবে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকির মুখে নয়। দল তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত, এমনকি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিলেও, শুধু সেই কারণে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হবে না। তবে তিনি যদি নিজে দল থেকে পদত্যাগ করেন (সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ), অথবা পরবর্তীকালে এমন কোনও আইনগত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, যাতে তিনি সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও প্রযোজ্য আইনের অধীনে সংসদ সদস্য থাকার অযোগ্য হয়ে পড়েন, তাহলে সংবিধানে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তার সদস্য পদের প্রশ্ন নিষ্পত্তি হবে জানান ব্যারিস্টার শাকের।
এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন, ‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে আছে “পদত্যাগ”। তিনি হয়েছেন “বহিষ্কার”। জামায়াত আজকেই নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দিচ্ছে। কারণ “নৈতিকস্খলন”। প্রশ্ন হচ্ছে সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন কি না? আমার মতে না।’
অতীতের নজির কী বলছে?
আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকিকে দল থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়েছিল।
অন্যদিকে, নবম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি এইচ এম গোলাম রেজাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলেও স্পিকারের কাছে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তিনি সংসদ সদস্য পদে বহাল ছিলেন।







