স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিগত নির্বাচনে জনগণ অসুর শক্তির বিপক্ষে রায় দিয়েছে

জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়সহ এ দেশের জনগণ অসুর শক্তির বিপক্ষে রায় দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, আগামীতেও গণতন্ত্রকে সুদৃঢ় করতে ও অসাম্প্রদায়িকতা বজায় রাখতে সব ধরনের অসুর শক্তি ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে হিন্দু সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ থাকবে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাজধানীর পলাশী মোড়ে জন্মাষ্টমীর কেন্দ্রীয় মিছিলের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হয়।
অতীতের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করে অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, ‘‘অতীতে ফ্যাসিবাদী শক্তি মনে করত— সনাতন ধর্মাবলম্বীরা একটি নির্দিষ্ট দলের ‘ভোট ব্যাংক’ এবং এভাবে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছিল; কিন্তু বিগত নির্বাচনে আপনারাসহ এ দেশের সচেতন জনগণ সেই কৃত্রিম মিথ ও ভুল ধারণা সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন।’’
সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর বিগত ছয় মাসে সব ধর্মের ধর্মীয় আচারানুষ্ঠান ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘‘বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ধর্ম বা অন্য কোনো বিভাজনের ভিত্তিতে নয়, বরং এ দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সমান অধিকার ও নিরাপত্তা ভোগ করবে। আমাদের প্রধান ও প্রথম পরিচিতি হওয়া উচিত ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি’।’’
সালাহউদ্দিন আহমদ তার বক্তব্যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘‘আমাদের নেতা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন—‘সবার আগে বাংলাদেশ’। আর যদি সবার আগে বাংলাদেশ হয়, তবে আমরা প্রত্যেকেই ‘সবার আগে বাংলাদেশি’। আমাদের ধর্মীয়, সামাজিক কিংবা নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় এর পরে আসবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের মূল নীতিই হলো সবার জন্য বাংলাদেশ।’’
সংবিধান ও ধর্মীয় অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বাধ্য। সংবিধানের চেতনা অনুযায়ী ধর্মের ভিত্তিতে কোনো প্রকার বৈষম্য করা যাবে না। সব ধর্মাবলম্বীর উপাসনালয় এবং উপাসনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সরকার কেবল সংবিধানে এটি কিতাবি রূপে সীমাবদ্ধ রাখতে চায় না, বাস্তবেও এই সাম্য ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।’
ভাষার ব্যবহারে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সচরাচর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি শব্দটি ব্যবহার করি। কিন্তু আমি মনে করি সাম্প্রদায়িক শব্দটির আর প্রয়োজন নেই। আজ থেকে আমাদের বলতে হবে—আমরা ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান এবং শান্তি বজায় রাখব। এই ইতিবাচক চর্চাই সমাজকে আরও সুন্দর করবে।’
মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শুভাশীষ কুমার বিশ্বাস সাধনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন— ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন চন্দ্র মজুমদার, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে মিছিলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন— বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা কাজল দেবনাথ, সহ-সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ প্রমুখ।
পরে সেখান থেকে জন্মাষ্টমীর মিছিল বের হয়। মিছিলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির কেন্দ্রীয় নেতারা অংশগ্রহণ করেন। মিছিলটি পুরান ঢাকার বাহাদুরশাহ পার্কে গিয়ে শেষ হয়।






